​আর্থিক সংকটে বন্ধ চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা

প্রকাশ : ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩৫ , অনলাইন ভার্সন
ব্যাংক ঋণসংকট, তারল্য ঘাটতি এবং কাঁচামাল আমদানিতে অচলাবস্থার কারণে চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের ১১টি শিল্পকারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে কয়েক হাজার শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন। শিল্পাঞ্চল কর্ণফুলীতে এ ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় শিল্প সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কারখানা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিভিন্ন কারখানার নোটিশ বোর্ডে শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অব্যাহতির তালিকা প্রকাশ করা হয়। নোটিশ অনুযায়ী, ১ আগস্ট থেকে ছাঁটাই কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদন কার্যক্রমও পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে— এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস
ইনফিনিটি সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম স্টিল, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস (এনওএফ), চেমন ইস্পাত, গ্যালকো স্টিল, এস আলম ব্যাগ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম ভেজিটেবল অয়েলসহ মোট ১১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় ও শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে এসব কারখানায় প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার স্থায়ী এবং দেড় হাজার অস্থায়ী শ্রমিক ছিলেন।

গত এক বছরে উৎপাদন কমে যাওয়ায় কয়েক দফায় ৩০০, ৪০০ এবং ৫০০ জন করে শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়। সর্বশেষ ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে কার্যত সব কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ নোটিশ টাঙিয়ে চাকরি থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

কারখানা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই গ্রুপটির ব্যবসা কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। ব্যাংক থেকে নতুন ঋণ সুবিধা না পাওয়া, এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খুলতে না পারা এবং কাঁচামাল আমদানিতে স্থবিরতার কারণে একের পর এক উৎপাদন লাইন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে সীমিত উৎপাদনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘কারখানায় বর্তমানে সব ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় কর্মরতদের নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’’

মানবসম্পদ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত প্রায় দুই বছর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে গ্রুপটির তারল্য প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ফলে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক নিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব হচ্ছে না।

শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, এস আলম গ্রুপের কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু শ্রমিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না; চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিবহন, কাঁচামাল সরবরাহ, প্যাকেজিং, ঠিকাদারি ও ক্ষুদ্র সহায়ক শিল্পেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে দেশের চিনি, ইস্পাত, সিমেন্ট ও ভোজ্যতেল খাতের সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে শ্রমিক সংগঠনগুলো দ্রুত বকেয়া পাওনা পরিশোধ, আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতের সংকট নিরসন ও শিল্প উৎপাদন পুনরুদ্ধারে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঠিকানা/এসআর
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]