​সোসাইটি নিয়ে এত কথা কেন?

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১৪:২৯ , অনলাইন ভার্সন
একই বিষয়ে কত আর লেখা যায়? পাঠক এবং লেখক উভয়েরই ক্লান্তি ও নিঃশক্তি দুই-ই এসে যায় বারবার পড়তে পড়তে এবং লিখতে লিখতে। বাংলায় বলে-লেবু বেশি চিপলে তিতা হয়ে যায়-সেরকম। এটুকু কথা বাংলাদেশ সোসাইটি সম্পর্কে। সোসাইটির কর্মকর্তা, সে যারাই ক্ষমতাসীন হন, তারা যেন কানে তুলা দিয়ে চলেন। যে যা-ই পরামর্শ দিক, মিডিয়ায় সোসাইটির কর্মকর্তাদের নিয়ে যে যা-ই লিখুক, কানে কিছুই যাবে না। কানে তাদের তুলা দেওয়া আছে। এটা অবশ্য ভালো। অপছন্দের কথা যত কম শোনা যায়, ততই ভালো।

অবশ্য তাতে কিছু যায় আসে না। তারা আর না শুনুন, কানে যতই তুলা দিয়ে না শোনার চেষ্টা করুন, যাদের বলার কথা, যাদের বলার দায়িত্ব এবং যারা বলার অধিকার রাখেন, তারা বলবেনই। সোসাইটির কর্মকর্তাদের বাইরে যারা সদস্য আছেন, তারা শুনবেন। কমিউনিটির অন্যান্য মানুষও শুনবেন। পত্র-পত্রিকা বা অন্যান্য মিডিয়ার দায়িত্ব খবর প্রচার করে মানুষকে জানানো। বিশেষ করে, সোসাইটির মতো একটি প্রতিষ্ঠানকে বলা হয় বাঙালি প্রবাস কমিউনিটির ছাতা সংগঠন। অর্থাৎ ছাতার নিচে রেখে সবাইকে ছায়া দান করা।

কমিউনিটি কি সেই ছায়া পাচ্ছে? সামনে নির্বাচন সামনে রেখে প্রশ্নটি এখন চারদিকে ঘুরপাক খাচ্ছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-নির্বাচনের মাধ্যমে একটি পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনই কি সোসাইটি প্রতিষ্ঠার একমাত্র লক্ষ্য ছিল? ১৯৭৫ সালের ২৩ নভেম্বর নিউইয়র্ক শহরের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ল হলে এক ঐতিহাসিক সভায় যাদের উদ্যোগে বাংলাদেশ নাম নিয়ে এই সোসাইটি প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল, তা কি কেবলই নির্বাচন করে কর্মকর্তা নির্বাচিত হয়ে কমিউনিটির নেতা হিসেবে নিজেদের পরিচিতি তৈরি করতে? বাস্তবতা তো সে কথাই বলে। কমিউনিটিতে একদল মানুষ দেখা যায়, যারা শুধু নির্বাচন সামনে এলে নয়, এক নির্বাচন থেকে আরেক নির্বাচন পর্যন্ত সমগ্র সময়টাতেই তারা নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ, নিজেদের পছন্দের প্রার্থী নিয়ে সরগরম থাকেন। সোসাইটির নির্বাচন যে কেবল নির্বাচিত একটি পর্ষদ নির্বাচনের বিষয়, এই নিরেট সত্যটাই তারা ভুলে যান। আর নির্বাচনে যে ভয়ংকর অন্যায্য কাজটি করা হয়, যারা ৫১ বছর আগে এই সোসাইটি গড়ে তোলার কথা ভাবেন, সেটা তাদের মাথায় একটুও ছিল না। তাদের কেবলই নির্বাচনে জয়লাভ মুখ্য হয়ে ওঠায় সোসাইটি গঠনের মূল আদর্শ আড়ালেই পড়ে যায়।

সোসাইটির এসব নিয়েই ঠিকানার গত ৮ জুলাই সংখ্যায় শেষের পৃষ্ঠায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে। সংবাদটির শিরোনাম : ‘বাংলাদেশ সোসাইটির গঠনতন্ত্র নির্বাচন-কেন্দ্রিক/প্রার্থীর টাকায় সদস্যপদ, ভোট দিলেই মেয়াদ শেষ’। সংবাদটি সাধারণ পাঠক মহলকে বেশ আলোড়িত করেছে। এই প্রতিবেদনটিকে ঘিরে আরও কিছু কথা জানার জন্য তারা আগ্রহ প্রকাশ করার পরিপ্রেক্ষিতেই এই সম্পাদকীয়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ‘সদস্যপদ নিবন্ধন এবং নবায়নে এবার প্রবাসীদের সর্ববৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি সর্বকালের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। গত ৩০ জুন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার সদস্য নতুন করে গ্রহণ বা পুরনো সদস্যপদ নবায়ন করেছে।’ খবরটি আনন্দদায়ক এবং আশাব্যঞ্জক। তবু অনেকের অভিমত হচ্ছে, ৩৫ হাজার নয়, নিউইয়র্কে ১৫ বছরের অধিক বয়সী যত বাঙালি আছেন, তাদের সকলেরই সদস্য হওয়ার কথা। তবে ৩৫ হাজার সদস্য হওয়ার খবরটি সত্যি ষোলো আনা আনন্দদায়ক হতো, যদি সদস্যদের সবাই নিজেদের অর্জিত অর্থ দিয়ে সদস্যপদ লাভ করতেন। কিন্তু সদস্যদের অধিকাংশই প্রার্থীদের অর্থে সদস্যপদ অর্জন করেছেন বলে জানা যায়। এ প্র্যাকটিস নতুন নয়, বহুদিন থেকেই এটা চলে আসছে। সদস্যরা অনেকে জানেনই না যে তারা সদস্য হয়েছেন। যখন জানেন, তখন হয়তো তারা তাদেরকেই ভোট দেন। এর কারণ আর কিছুই নয়, সোসাইটির কর্মকর্তারা সাধারণ সদস্যদের কাছে সোসাইটিকে প্রয়োজনীয় একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আগ্রহী করে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। যে কারণে তারা বিমুখ। প্রার্থীরা শুধু নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আগ্রহ থেকে তাদের পকেট থেকে হাজার হাজার ডলার ব্যয় করে সদস্য করেন। যেটা অনৈতিক এবং অন্যায্য পথ। এর বাইরেও সোসাইটিকে বিশেষ করে নতুন প্রবাসীদের এ দেশের কাজের জন্য যোগ্য করে গড়ে তোলার উদ্যোগ লক্ষ করা যায় না। তাদের জন্য সোসাইটির কোনো কর্মসূচি বা প্রকল্প দেখা যায় না। সেই সঙ্গে সোসাইটির কোনো কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও সোসাইটিকে প্রতিষ্ঠান হিসেবে মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেই। যেটা জরুরি। এ ছাড়া আগে সোসাইটিকে বুদ্ধিদীপ্ত কিছু সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, আলোচনা অনুষ্ঠানে লেখক-কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিকদের সংযুক্ত করতে দেখা যেত। এখন সেটা দেখা যায় না বললেই হয়।

এসব নিয়ে কেউ কোনো পরামর্শ দিলে সেটাকে সমালোচনার দৃষ্টিতে দেখা হলে ভুল করা হবে। সবাই চান সোসাইটি প্রবাসীদের সার্বিক অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখুক। যে লক্ষ্যে ৫১ বছর আগে কয়েকজন উদ্যোগী মানুষ সোসাইটি গঠন করেছিলেন-সেই লক্ষ্য পূর্ণ হোক।
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]