​হরমুজে হামলা বন্ধে ইরানের প্রতিশ্রুতি চায় যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৯ , অনলাইন ভার্সন
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধে ইরানের অঙ্গীকার চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। ওমানে শনিবার অনুষ্ঠেয় আলোচনার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন এ দাবি জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম লিখেছে, তেহরান অনানুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের কাছে স্বীকার করেছে যে জাহাজে গুলি চালানো একটি ভুল ছিল।

বিবিসি লিখেছে, হামলার জন্য ইরানিরা নিজেদের একটি দলছুট গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে বলে খবর বেরিয়েছে।

ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলতি সপ্তাহের লড়াইয়ের পরও উভয়পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই করে। সেই চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলের ব্যবস্থা করতে রাজি হয়েছিল।

মার্কিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে বলেছেন, কিছু কঠোরপন্থি মানুষ ‘ভুল পথে’ গিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়ে আলোচনা বিফলের চেষ্টা করছে।

একজন কর্মকর্তার ভাষ্য, “ইরানিরা আবার আলোচনায় ফিরে এসে বলেছে, ‘আমরা ভুল করে ফেলেছি। আসুন আলোচনা চালিয়ে যাই’।”

মার্কিন কর্মকর্তারা শুক্রবার ব্রিফিংয়ে বলেছেন, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের নেতৃত্বকে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে।

একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই বার্তায় ইরানের কাছে একটি বিবৃতি চাওয়া হয়েছে, যাতে তারা বলে যে—হরমুজ প্রণালি খোলা আছে এবং তারা বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি করা বন্ধ করবে।

একজন কর্মকর্তা বলেছেন, “তারা হয় আমাদের ওই বিবৃতি দেবে, নাহয় তাদের জন্য ভালো ফল হবে না।”

সিবিএসের খবরে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউজ চাইছে, জাহাজে গুলি করা ভুল ছিল—এমন কথা ইরান প্রকাশ্যে স্বীকার করুক।

বিবিসি লিখেছে, শনিবার ওমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, পশ্চিম এশিয়া আলোচনায় সম্পৃক্ত বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার মার্কিন প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এরমধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌচলাচল সহজ করতে কাতারের একটি প্রতিনিধি দল শুক্রবার ইরান সফর করেছে।

ট্রাম্প শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে পোস্টে দাবি করেছেন, “ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ‘আলোচনা’ চালিয়ে যেতে আমাদের অনুরোধ করেছে।

“আমরা তা করতে সম্মত হয়েছি, তবে যুক্তরাষ্ট্র দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তাদের জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শেষ!”

মঙ্গল ও বুধবার উপসাগরীয় অঞ্চলে লড়াই শুরু হওয়ার পর শুক্রবার নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। গত জুনে অন্তর্বর্তী চুক্তি সই হওয়ার এটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত।

ওমানের জলসীমা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেখানো একটি পথব্যবহার করার সময় তিনটি জাহাজে আঘাত হানা হয়। ইরান বারবার বলেছে, একমাত্র ‘নিরাপদ’ পথ হলো তাদের জলসীমা দিয়ে যাওয়া আলাদা একটি পথ।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দফা সমঝোতা হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে তারা যুদ্ধবিরতি বাড়াতে এবং সংঘাত শেষ করার কথা বলেছিল।

চুক্তি অনুযায়ী ইরানকে ওমান ও উপসাগরের অন্য দেশগুলোকে নিয়ে প্রণালি পরিচালনা পদ্ধতি ঠিক করতে হবে।

এর আগে ইরান প্রণালীর ওপর নিজের দাবি জানাতে চেয়েছিল এবং তারা 'পারস্য উপসাগর প্রণালী কর্তৃপক্ষ' নামে একটি সংস্থাও গঠন করেছিল, যা 'নিরাপদে চলাচলের অনুমতি' দিত।

ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা বলছে, নতুন চুক্তিতে প্রণালী ইরান ওমানের সঙ্গে মিলে পরিচালনা করবে এবং জাহাজ চলাচলের জন্য হয়তো কিছু ফি নেওয়া হতে পারে।"

সংঘাতের সময় ইরান প্রণালির ওপর নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল, যার মধ্যে ‘পারস্য উপসাগর প্রণালী কর্তৃপক্ষ' গঠনও ছিল। ইরান বলেছিল, এই কর্তৃপক্ষ 'নিরাপদ চলাচলের অনুমতির’ বিষয় দেখভাল করবে।

ইরানের ফার্স নিউজ লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি অনুযায়ী ইরান প্রণালি পরিচালনা প্রশ্নে ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করবে, যাতে জাহাজ চলাচলের জন্য সম্ভাব্য ‘সেবা ফি’ থাকতে পারে।”

ঠিকানা/এসআর
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]