​একটি আনন্দ সংবাদও কখনো মানুষের স্বপ্ন জাগিয়ে দিতে পারে

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৩১ , অনলাইন ভার্সন
একজন মানুষের মনস্তত্ত্ব, অন্য আরেকজন মানুষের বোধের অগম্য। শত মানুষের শত স্বপ্ন, শত ভাবনা। কিন্তু একটা সমাজ-গোষ্ঠীর জন্য যখন সুসংবাদের বড়ই আকাল পড়ে এবং চারদিক থেকে যখন দুঃসংবাদ, হতাশা, দুঃস্বপ্ন ভিড় করে মানুষের জীবনে; মানবিক, প্রাকৃতিক সব দিক থেকে যখন নিষ্ঠুর আচরণে পুরো একটি সম্প্রদায় গভীর হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ে, মুক্তির কোনো পথ খুঁজে পায় না; আলো নেই, আশা নেই, সবদিকে ঘোর অন্ধকার; তখন একজন ডুবন্ত মানুষও খড়কুটো পেলেই তা ধরে জীবনকে বাঁচিয়ে তোলার সাহস পায়। শত দুঃসংবাদের মধ্যে, ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত মানুষ যখন সামান্য একটি সংবাদের মধ্যেও একটু আলো দেখতে পায়, তখন সেই আলোর পথ ধরে একজন হতাশাগ্রস্ত মানুষের ওই একটি সংবাদই তার সব স্বপ্ন বাস্তবতার পথ খুঁজে পাওয়ার প্রয়াস পায়।

যেকোনো অভিবাসী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জীবনে অভিবাসন-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি দেশে স্থায়ী আবাসন লাভের স্বপ্নের চেয়ে বড় আর কোনো স্বপ্ন থাকে না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের শীর্ষ নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের পিতা-মাতা অভিবাসী জীবন থেকে আমেরিকান হলেও ট্রাম্প কী কারণে যেন অভিবাসীদের দুই চক্ষের বিষ মনে করেন। তিনি তার নির্বাহী ক্ষমতা থেকে শুরু করে অভিবাসন আইনকে যত কঠোর করে সম্ভব আমেরিকার অভিবাসন-প্রক্রিয়াকে এমনভাবে অভিবাসীপ্রত্যাশীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে শুরু করেন। ফলে যে আমেরিকা হওয়ার কথা তাদের জন্য স্বপ্নের দেশ, তা না হয়ে আমেরিকা যেন অভিবাসীদের জন্য এক অচেনা দেশে পরিণত হতে থাকে। যে আমেরিকা আজকের গ্রেট আমেরিকা, সে আমেরিকা তো অভিবাসী শ্রমিকদের রক্ত, ঘাম এমনকি জীবনের বিনিময়েই গড়ে উঠেছে। সে কারণেই হয়তো যুক্তরাষ্ট্রও অভিবাসীদের স্বপ্নের দেশে পরিণত হয়েছিল। পৃথিবীর সকল অঞ্চলের সকল নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষের স্বপ্ন ছিল ‘যেকোনো কিছুর বিনিময়ে’ একবার যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখতে পারলেই সব স্বপ্ন হাতের মুঠোয়। ‘স্কাই ইন দ্য লিমিট’-সব স্বপ্ন বাস্তবায়নের এটাই সীমা। অর্থাৎ সব স্বপ্ন পূরণ করার এটাই সম্ভাবনা।

সেই সম্ভাবনার দ্বার রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল প্রায়। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক রায়ে কেবল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশই বাতিল হয়নি, সেই একটি রায়ই যেন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের স্বপ্নের সকল দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই সু এবং স্বস্তির সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে ১ জুলাই সংখ্যা ঠিকানার লিড শিরোনাম হয়ে। শিরোনামটি হচ্ছে : ‘সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল, ট্রাম্পের উদ্যোগে বড় ধাক্কা/স্বস্তিতে লাখো অভিবাসী পরিবার’।

সংবাদটি পরিবেশন করা হয়েছে এভাবে : ‘যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ে বড় ধরনের রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত রায়ে স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।’ এই রায়ের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাহী আদেশবলে জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভের সুযোগ সীমিত করার যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা বড় ধরনের একটি ধাক্কা খেল। জন্ম এবং বিবাহসূত্রে নাগরিকত্ব লাভের সুযোগ অধিকাংশ দেশে একটি সংবিধানস্বীকৃত অধিকার। ট্রাম্প সেই বহুল স্বীকৃত সুযোগটিও বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টের এই একটি রায় অভিবাসীপ্রত্যাশী মানুষের স্বপ্ন আরও চওড়া করে দেবে। নতুন স্বপ্ন আবার তাদের হাতছানি দেবে। তবে এখনো ভুলে গেলে চলবে না, একটি রায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পক্ষে গেলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে নতুন কোনো পথ বের করবেন না, এর কোনো গ্যারান্টি নেই। তাই আদালতের ওপর আস্থা রাখার পাশাপাশি অভিবাসী সমাজকে এ দেশের মূলধারায় অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। যাতে আদালত এবং আইনপ্রণেতা সকলের রায়ই অভিবাসনের অনুকূলে থাকে। না হলে আবার স্বপ্ন হরণের দুর্দশায় পতিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]