​তুরস্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে কাজ চলছে: ট্রাম্প

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ১৭:৩৮ , অনলাইন ভার্সন




যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি তার প্রথম মেয়াদে তুরস্কের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিচ্ছেন।

ন্যাটো সম্মেলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আঙ্কারায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প বলেন, আমরা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছি, ঠিক আছে? এখন সময় এসেছে এটি করার। আমরা বন্ধুদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে চাই না। বিষয়টি খুবই সহজ।

ট্রাম্পের বক্তব্য তুর্কি ভাষায় অনুবাদ হওয়ার সময় সাধারণত সংযত স্বভাবের এরদোয়ান হাসিমুখে ট্রাম্পকে থাম্বস-আপ দেন।

সিএএটিএসএ নিষেধাজ্ঞার পটভূমি

তুরস্কের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল কাউন্টারিং আমেরিকা'স অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্ট (CAATSA) আইনের আওতায়। রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ (S-400) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তুরস্ককে উত্তর কোরিয়া ও ইরানের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ দেশগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এছাড়া, রাশিয়ার কাছে সংবেদনশীল প্রযুক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় তুরস্ককে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকেও বাদ দেওয়া হয়।

এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফেরার সম্ভাবনা

ট্রাম্প আঙ্কারায় আরও জানান, তুরস্ককে আবারও এফ-৩৫ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও তার প্রশাসন বিবেচনা করছে।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস’র সঙ্গে যুক্ত সাবেক তুর্কি কূটনীতিক আলপার কোসকুন বলেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণা ‘আঙ্কারার জন্য সুখবর’।

তার ভাষায়, এটি সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা। যদিও প্রশাসন কিছুদিন ধরেই একই ধরনের অবস্থান জানিয়ে আসছে, তবে ট্রাম্প কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি এগিয়ে নিতে চান—এমন ইঙ্গিত এতে পাওয়া যাচ্ছে। 

কোসকুনের মতে, এর বিনিময়ে তুরস্ককে এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগের পথে এগোতে হবে।

কংগ্রেসের অনুমোদনের বিষয়

সিএএটিএসএ একটি ফেডারেল আইন হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে মার্কিন কংগ্রেসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ট্রাম্প প্রশাসন চাইলে যুক্তি দেখাতে পারে যে, যেসব পরিস্থিতির কারণে তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, সেগুলো এখন আর বিদ্যমান নেই। সে ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার প্রয়োগ নতুনভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ থাকতে পারে।

এছাড়া প্রেসিডেন্ট বিশেষ ছাড় দেওয়ার ক্ষমতাও ব্যবহার করতে পারেন। তবে তিনি সেই পথ বেছে নেবেন, নাকি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সহযোগিতায় এগোবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।

ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে তুরস্কের প্রশংসা

পশ্চিম ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের নেতাদের সমালোচনা করলেও ট্রাম্প ন্যাটো জোটে তুরস্ককে ‘বিশ্বস্ত’ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেনের নেতাদের প্রতিরক্ষা ও অভিবাসন নীতিতে দুর্বল বলে সমালোচনা করেন। এছাড়া গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্কের অবস্থান এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে চলমান বিরোধের কথাও উল্লেখ করেন।

ট্রাম্প অভিযোগ করেন, মার্চ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে তার অভিযানে পশ্চিমা দেশগুলো যুক্ত না হওয়ায় তিনি তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট।

তিনি বলেন, আমি ন্যাটো নিয়ে খুবই হতাশ ছিলাম। সত্যি বলতে, সম্মেলনটি যদি তুরস্কে না হতো, যেখানে আমার বন্ধু একজন অত্যন্ত শক্তিশালী নেতা, তাহলে হয়তো আমি আসতাম না।

তিনি আরও বলেন, ইরান ইস্যুতে আমরা যা করেছি, সে কারণে পশ্চিম ইউরোপ আমাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করেনি। আমাদের কারও সাহায্যের প্রয়োজন ছিল না। আমি সাহায্য চাওয়ার আগেই তারা জানিয়ে দিয়েছিল, তারা আমাদের সঙ্গে থাকবে না।

সবশেষে ট্রাম্প বলেন, তুরস্কের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও ভালো। একই সঙ্গে তিনি তুরস্ককে একজন ‘বিশ্বস্ত’ মিত্র হিসেবে অভিহিত করেন।

ঠিকানা/এসআর
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]