এক বছরের কন্যা সন্তানকে বাঁচাতে নিজের শরীর দিয়ে আগলে রেখে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন মা
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে হাজারো মানুষের মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার মধ্যেও উঠে এসেছে এক মায়ের আত্মত্যাগের হৃদয়বিদারক গল্প। মাত্র এক বছরের কন্যা সন্তানকে বাঁচাতে নিজের শরীর দিয়ে আগলে রেখে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এক মা। তার এই আত্মত্যাগ এখন শোকাহত ভেনেজুয়েলার মানুষের কাছে মাতৃত্বের এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছে।
ভেনেজুয়েলার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও দেশটির ফুটবলার হেক্টর বেলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত ওই নারীর নাম আন্দ্রেয়া। তিনি শক্তিশালী দুই দফা ভূমিকম্পের সময় ভবন ধসে পড়ার মুহূর্তে নিজের এক বছরের মেয়ে আলানাকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে রক্ষা করেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও আন্দ্রেয়াকে আর বাঁচানো যায়নি।
স্ত্রীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দেন ফুটবলার হেক্টর বেলো। তিনি লেখেন, “একদিন আমি আমাদের মেয়েকে বলব, কীভাবে তুমি নিজের জীবন দিয়ে তার জীবন বাঁচিয়েছ। তুমি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তাকে ছেড়ে যাওনি।” তিনি আরও বলেন, “আমি কীভাবে আমাদের মেয়েকে বোঝাব যে তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার মা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন?”
ভূমিকম্পে আহত আলানা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্ন থাকলেও সে আশঙ্কামুক্ত। পরিবারের অন্য কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছেন।
এদিকে ভেনেজুয়ায় উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলে পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী কারাকাস, লা গুয়ারা ও আশপাশের এলাকায় শত শত ভবন ধসে পড়েছে। বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের খোঁজ করছেন।
সর্বশেষ সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা কয়েকশ ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। তবে উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা ইতোমধ্যে ভেনেজুয়ায় পৌঁছাতে শুরু করেছে। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে।
দুর্যোগের এই ভয়াবহতার মধ্যেও আন্দ্রেয়ার আত্মত্যাগের ঘটনা ভেনেজুয়াজুড়ে গভীর আবেগের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষ তাকে ‘মায়ের ভালোবাসার সর্বোচ্চ উদাহরণ’ হিসেবে স্মরণ করছেন। অনেকেই লিখেছেন, একজন মা শেষ মুহূর্তেও নিজের সন্তানের জীবনকেই নিজের জীবনের চেয়ে বেশি মূল্য দিয়েছেন। সূত্র : বিবিসি