জিয়ার পূর্বমুখী কূটনীতি চর্চায় বর্তমান বিএনপি সরকার
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ০২:৫৮
•
অনলাইন সংস্করণ
ছবি ঠিকানা
রাষ্ট্রপতি হিসেবে জিয়াউর রহমানের প্রথম সফর ছিল চীনে। পূর্বমুখী সেই কূটনীতি চর্চা শুরু করেছে বর্তমান বিএনপি সরকারও। তাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান প্রথমে মালয়েশিয়া, তারপর চীন সফর করছেন। এসব কথা বলেছেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল।
ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে তিনি আরও বলছেন, বিগত সরকারগুলো থেকে পাওয়া অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জ বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে চীন পরীক্ষিত উন্নয়ন সহযোগী। তাই তারেক রহমানের সফর মূলত অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ। ভূরাজনীতির বিষয় ভেতরে ভেতরে কিছু থাকলেও অর্থনীতিই প্রধান বিষয় বলে মনে করেন তিনি।
বাণিজ্য চুক্তি থাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শর্তের বাইরে গিয়ে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে না বাংলাদেশ, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল বলেন, এই চুক্তি বিগত অন্তর্বর্তী সরকার করেছিল। বিএনপি সরকার সেই ধারাবাহিকতায় এটি প্রতিপালন করছে। কিন্তু ভবিষ্যতে এটি নিয়েও আলোচনা হবে। ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক ভালো। তবে পৃথিবীর ভরকেন্দ্র এখন আমেরিকার পাশাপাশি চীনও, এ কথা কিন্তু মনে রাখতে হবে- মন্তব্য করেন তিনি।
২৫ জুন বৃহস্পতিবার এই আলোচনা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন আপিল বিভাগের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। নিউইয়র্ক সময় বেলা ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) যা সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন ইউটিউব চ্যানেলে। দেশের সমসাময়িক নানা বিষয়ে সঞ্চালকের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন দুই অতিথি।
বাংলাদেশে যদি ভারত বিরোধিতা ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির চর্চা বেশি হয় প্রতিবেশী দেশটিতে বিজেপি তার রাজনৈতিক সুবিধা পেয়ে থাকে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী এই দলটির ক্ষমতায় আসার পেছনে এই সমীকরণ বেশ খানিকটা ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন ঢাকার কোনো কোনো রাজনীতি বিশ্লেষক। তবে এর সঙ্গে একমত নন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, ‘ভারতে দীর্ঘদিন বিজেপির ক্ষমতায় থাকার পেছনে সেখানকার প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের ব্যর্থতা রয়েছে। রাহুল গান্ধী এখনো বড় ধরনের সর্বভারতীয় নেতা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারছেন না। নেতৃত্বে তার এই ব্যর্থতা বিজেপিকে সুবিধা করে দিচ্ছে।’
এদিকে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে ও সংসদের বাইরে সরকারি দল বিএনপি ও প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের মধ্যে একধরনের কথার লড়াই চলছে। এ প্রসঙ্গে আপিল বিভাগের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা জবরদখল করা হয়েছিল। সেটা ছিল সাংঘাতিক অপরাধমূলক কাজ। বিএনপি সরকারকে এর বিচার করতে হবে। উল্টো যদি দখলকারী এস আলমকে ফেরানোর চেষ্টা দৃশ্যমান হয়, যৌক্তিক কারণেই তার প্রতিবাদ করবে জামায়াত। জবরদখলের আগের মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও একই যৌক্তিকতা থেকে, বলেন তিনি।
বিএনপি সরকার ইসলামী ব্যাংককে এস আলমকে ফেরাতে চায়, এমন কথার কোনো ভিত্তি নেই- দাবি করেন দলটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলে এস আলম সাহেব যেভাবে ব্যাংক খেয়ে ফেলেছেন, বর্তমান সরকার অবশ্যই এর বিচার করবে। তাই তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলমান। তাহলে তারা কীভাবে আবার মালিক হবে? যদি ভবিষ্যতে এমন কিছু ঘটে বিএনপির লোক হয়েও আমি এর প্রতিবাদ করব। আমার জানামতে, এখন এমন কোনো পরিস্থিতি নেই।’