বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এরপর প্রশ্ন তোলা হয়েছে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর দুজনের মরদেহ কোথায় আছে? মরদেহ কি বাংলাদেশে পাঠানো হবে, নাকি সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছে। তদন্ত ও বিচার চলাকালে দুই অপরাধীর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না এবং দুজনের কেউ আইনি সহায়তা চেয়েছিলেন কি না।
ঢাকায় সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, মৃত্যুদণ্ডের পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে ঢাকায় কিংবা জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশনের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। বিশেষ করে বিচারের সময় দুজনের আইনি প্রতিনিধিত্ব ছিল কি না, তা মিশন নিশ্চিত নয়।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সৌদি কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বাংলাদেশকে কারাবন্দী ও দণ্ডিত বাংলাদেশিদের তালিকা দেয়। সেপ্টেম্বরের তালিকায় এই দুজনের নাম ছিল। একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ‘ব্যভিচার’, অন্যজনের ‘আইসিটি’ বা তথ্যপ্রযুক্তি–সংক্রান্ত অপরাধ। কিন্তু তালিকায় শাস্তির তথ্য ছিল না। ফলে মৃত্যুদণ্ডের কথা না জেনে তাঁদের কনস্যুলার সেবা দিতে পারেনি বাংলাদেশ।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মক্কার একটি মসজিদ কমপ্লেক্সে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে পবিত্রতা লঙ্ঘনের দায়ে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। তালিকার অভিযোগ আর এই বিবৃতি কীভাবে মেলে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কনস্যুলেটের প্রথম প্রশ্নটি তাই শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, অসংগতি পরিষ্কার করার চেষ্টাও।
উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় প্রশ্ন
১৯ অক্টোবরের বৈঠকে জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির কাছে জানতে চান, কেন তথ্য অসম্পূর্ণ রাখা হলো। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য, মৃত্যুদণ্ডের তথ্য জানা থাকলে মিশন তাঁদের সুরক্ষায় উদ্যোগ নিতে পারত। এ ধরনের মামলায় সাধারণত আইনি সহায়তা, আপিল ও উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির গত সপ্তাহে ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ এনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতাশার। সৌদি আরব থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন আদালত ও আপিল আদালতের বিচার শেষে এ মাসে দণ্ড কার্যকর হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রায় আড়াই হাজার বন্দীর তালিকা পাঠিয়েছিল। এতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনসহ ২২ জন বাংলাদেশিকে দণ্ড দেওয়ার কথা বলা হলেও সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়ি তাঁদের কী ধরনের শাস্তি হয়েছে। তাই ওই ২০ জনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়ে সৌদি আরবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ কূটনৈতিক পত্রের জবাব এখনো দেয়নি। তাঁরা জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন।
নিউজটি শেয়ার করুন