২২ অক্টোবর ২০২৬—তারিখটা নিশ্চয় ক্রিকেটপ্রেমীরা বহুকাল মনে রাখবেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যে রান উৎসব আর সফলভাবে রান করার দিন আজ! বিকেলে ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২২৬ রানের লক্ষ্য টপকেছে ভারত, যা তাদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান করে জয়। সেই রেশ থাকতেই রাতে রাওয়ালপিন্ডিতে অবিশ্বাস্য এক কীর্তি গড়ল শ্রীলঙ্কা। ত্রিদেশীয় সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের দেওয়া ৪৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতল লঙ্কানরা, যা নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সব মিলিয়ে এটি ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সফলভাবে তাড়া করার রেকর্ড।
২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার করা ৪৩৪ রান টপকে ৪৩৮ করে ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০ বছর পরও প্রোটিয়াদের সেই বিশ্ব রেকর্ড অক্ষত।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের ডাবল সেঞ্চুরিতে রেকর্ড বইয়ে ঝড় তুলেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু পবন রত্নায়েকের সেঞ্চুরি, আভিস্কা ফার্নান্ডো ও দাসুন শানাকা—দুজনেরই ৯৭ এবং জানিথ লিয়ানাগের বীরোচিত ফিনিশিংয়ে (২৭ বলে অপরাজিত ৬১) ব্রুকের ২০২ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস বৃথা গেল।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে ২৪ রানেই ‘দুই মেন্ডিস’ কামিন্দু ও কুশলের উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। তখন লঙ্কানদের পাঁড় ভক্তরাও হয়তো ভাবতে পারেননি, নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিততে চলেছে তাদের দল।
তবে পবন রত্নায়েকে ও আভিস্কা ফার্নান্ডো ১৩৭ বলে ১৬৬ রানের জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কাকে কক্ষপথে ফেরান। ফার্নান্ডো ৯৭ রানে আউট হলেও পবন সেঞ্চুরি পেরিয়ে অভিজ্ঞ দাসুন শানাকার সঙ্গে আরেকটি বড় জুটি গড়েন। এই জুটিতে আসে ৭৯ বলে ১৩৩ রান।
শ্রীলঙ্কা তখন থেকেই জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকে। পবন ও শানাকা আউট হওয়ার পর সেই স্বপ্ন জিইয়ে রাখেন জানিথ লিয়ানাগে।
শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কার দরকার ছিল ৮ রান। কিন্তু প্রথম ৪ বলে মাত্র ২ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে হারা ম্যাচ প্রায় জিতিয়েই দিয়েছিলেন জশ টাং। কিন্তু পঞ্চম বলে স্ট্রাইক পেয়েই ছক্কা মেরে রাতটাকে অবিস্মরণীয় করে রাখলেন লিয়ানাগে।