বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচন

ভোট উৎসব ২৫ অক্টোবর

৫ কেন্দ্রে ভোটার ৩৫ হাজার ♦ ফল ঘোষণা ৫৮ ম্যানরে ♦ নতুন কমিটির মেয়াদ ৩ বছর
ভোট উৎসব ২৫ অক্টোবর

(ছবিতে বাঁ থেকে) সভাপতি প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম ও আজমল হোসেন কুনু; সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, ফিরোজ আহমেদ ও সৈয়দ রাব্বী

বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির বহুল আলোচিত নির্বাচন আগামী ২৫ অক্টোবর, রোববার। নিউইয়র্কের পাঁচটি কেন্দ্রে ৩৫ হাজারের বেশি ভোটার সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। ভোটগ্রহণ শেষে কুইন্সের উডসাইড কেন্দ্র ৫৮ ম্যানর থেকে ফল ঘোষণা করা হবে। 
নির্বাচন ঘিরে শেষ মুহূর্তে চলছে জোর প্রচার-প্রচারণা। দুই প্যানেলের প্রার্থী ও সমর্থকেরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। সভা-সমাবেশ, নৈশভোজ, মতবিনিময়, গণসংযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থীরা। 
কে আসছেন বাংলাদেশ সোসাইটির আগামী নেতৃত্বে—এ নিয়ে চলছে আলোচনা, হিসাব-নিকাশ ও জল্পনাকল্পনা। বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন সেলিম-আলী প্যানেল এবং সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন কুনু-ফিরোজ প্যানেলের মধ্যে জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই। দুই পূর্ণাঙ্গ প্যানেলের পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সব মিলিয়ে ২১টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ৪৩ জন প্রার্থী।  গঠনতন্ত্র সংশোধনের ফলে এবারের 
নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ দুই বছরের পরিবর্তে তিন বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ২৫ অক্টোবরের ভোটেই নির্ধারিত হবে ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সোসাইটির নেতৃত্ব। তবে এবারের নির্বাচন শুধু দুই প্যানেলের জয়-পরাজয়ের প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ নেই। রেকর্ডসংখ্যক ভোটার, নজিরবিহীন প্রচার-প্রচারণা এবং বিপুল নির্বাচনী ব্যয় নিয়ে কমিউনিটিতে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন। নির্বাচনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের হিসাব ও অনুমান অনুযায়ী, সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন, প্রচার-প্রচারণা এবং ভোট আয়োজনসহ সামগ্রিক নির্বাচনী কার্যক্রমে প্রায় ২০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে। এ হিসাবে এবারের নির্বাচন বাংলাদেশ সোসাইটির ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচনগুলোর একটি বলে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই ব্যয়ের কোনো পূর্ণাঙ্গ ও নিরীক্ষিত হিসাব প্রকাশিত হয়নি।
একটি সামাজিক ও অলাভজনক সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনে এত বিপুল অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কমিউনিটির অনেকে। তাঁদের প্রশ্ন, নির্বাচনে জয়ী হতে যাঁরা এত অর্থ, সময় ও শ্রম ব্যয় করছেন, নির্বাচিত হওয়ার পর সাধারণ প্রবাসীদের কল্যাণে তাঁরা কতটা অবদান রাখতে পারবেন? অতীতে যাঁরা বাংলাদেশ সোসাইটির নেতৃত্বে এসেছেন, তাঁরা কমিউনিটিকে কী দিয়েছেন? নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে? দীর্ঘদিনের এই সংগঠন কি প্রবাসীদের বাস্তব সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পেরেছে, নাকি নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতি ও নেতৃত্ব তৈরির মধ্যেই এর কার্যক্রম অনেকাংশে সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে?
এমন প্রশ্নের পাশাপাশি সংগঠনের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবদানকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেকে। তাঁদের মতে, বাংলাদেশ সোসাইটি প্রবাসে বাংলাদেশিদের পরিচয়, ঐক্য ও সংস্কৃতি ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এত বড় সদস্যভিত্তিক সংগঠনের কাছে কমিউনিটির প্রত্যাশাও অনেক বেশি। এবারের নির্বাচন সেই প্রত্যাশা পূরণের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে দুই প্যানেলের প্রচার-প্রচারণা। জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, উডসাইড, ওজনপার্ক, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কসসহ বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে চলছে নির্বাচনী সভা, সমাবেশ ও মতবিনিময়। প্রার্থীরা দলীয় ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কেউ বাসায় বাসায় যাচ্ছেন, কেউ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভোট চাইছেন। আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফোনকল ও বিভিন্ন কমিউনিটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমেও ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন প্রার্থী ও সমর্থকেরা।
দুই প্যানেলই নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও অঙ্গীকার ভোটারদের সামনে তুলে ধরছে। বর্তমান নেতৃত্বের সেলিম-আলী প্যানেল ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সাংগঠনিক উন্নয়ন, প্রবাসীদের কল্যাণ, ঐক্য, আইনি সহায়তা, নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা এবং মূলধারার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমান কমিটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও অর্জনের কথাও ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন প্যানেলের প্রার্থী ও সমর্থকেরা।
অন্যদিকে কুনু-ফিরোজ প্যানেল পরিবর্তন, সাংগঠনিক গতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের অঙ্গীকার নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও জনকল্যাণমুখী করা এবং তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টিও তাঁদের প্রচারণায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
সম্প্রতি আয়োজিত এক নির্বাচনী বিতর্কেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থীরা বাংলাদেশ সোসাইটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, আর্থিক স্বচ্ছতা, সাংগঠনিক সংস্কার এবং প্রবাসীদের কল্যাণে নিজেদের ভাবনা তুলে ধরেছেন। এতে নেতৃত্বের জবাবদিহি ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে দুই প্যানেলের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ভোটারদের মধ্যে একটি প্রশ্নও রয়েছে-নির্বাচনী ইশতেহারের কতটা বাস্তবায়ন সম্ভব? প্রতিশ্রুতির বিপরীতে সুনির্দিষ্ট বাজেট, সময়সীমা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা কতটা রয়েছে? নির্বাচনের পর বিজয়ী নেতৃত্ব নিয়মিতভাবে সদস্যদের কাছে কাজের হিসাব দেবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ সোসাইটির এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে বিপুলসংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করাকে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত হিসাবে এবার ভোটারসংখ্যা ৩৫ হাজার ২৬৯ জন। আগের নির্বাচনে ভোটার ছিলেন প্রায় ১৮ থেকে ১৯ হাজার। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে ভোটারসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। 
ভোটারসংখ্যার এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি একদিকে সংগঠনের প্রতি আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সদস্য সংগ্রহ ও নবায়নের ফল হিসেবেও আলোচনা হচ্ছে।
এত বিপুলসংখ্যক ভোটারকে পাঁচটি কেন্দ্রে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। বিশেষ করে ভোটারদের দীর্ঘ সারি, পরিচয় যাচাই, ভোটগ্রহণের গতি, কেন্দ্রের শৃঙ্খলা ও ভোট গণনার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিবন্ধিত ভোটারের সবাই শেষ পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হবেন কি না, সেটিও একটি বড় প্রশ্ন। আগের নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভোট দেননি। এবার ভোটার উপস্থিতির হার নির্বাচনের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হতে পারে।
এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি। নির্বাচনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের হিসাব ও অনুমান অনুযায়ী, দুই প্যানেলের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন, প্রচার-প্রচারণা, সভা-সমাবেশ, আপ্যায়ন, প্রচারসামগ্রী এবং নির্বাচন পরিচালনার ব্যয় মিলিয়ে মোট খরচ প্রায় ২০ লাখ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
সদস্য নিবন্ধন ও নবায়ন কার্যক্রমেই বিপুল অর্থ ব্যয়ের আলোচনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ভোটারের সদস্য ফি প্রার্থী, তাঁদের সমর্থক কিংবা শুভানুধ্যায়ীরা বহন করেছেন। যদিও কতজন ভোটার নিজ অর্থে সদস্য হয়েছেন এবং কতজনের ফি অন্যরা দিয়েছেন, তার নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনী সভা, হল ও রেস্টুরেন্ট ভাড়া, খাবার, পোস্টার-ব্যানার, গণসংযোগ এবং আনুষঙ্গিক কার্যক্রমেও বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। কোনো কোনো প্যানেলের দৈনিক কয়েক হাজার ডলার খরচ হচ্ছে বলেও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।
এ ব্যয়ের অধিকাংশই প্রার্থী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুরো অর্থ বাংলাদেশ সোসাইটির নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হচ্ছে, এমন নয়। তারপরও একটি অলাভজনক সামাজিক সংগঠনের নির্বাচনে এত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের আলোচনা স্বাভাবিকভাবেই আর্থিক স্বচ্ছতা ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এই অর্থের উৎস কী? নির্বাচনের ব্যয় সম্পর্কে প্রার্থী ও প্যানেলগুলো বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করবে কি না? নির্বাচনে এত অর্থ ব্যয়ের পর বিজয়ী নেতৃত্ব সংগঠনের উন্নয়নে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে আগ্রহী কমিউনিটির একটি অংশ।
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনী ব্যয় ও ব্যাপক প্রচারণা ঘিরে কমিউনিটিতে আরও মৌলিক কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে। অনেকের মতে, বাংলাদেশ সোসাইটি বছরের পর বছর ধরে নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতিতে যতটা সক্রিয়, সাধারণ প্রবাসীদের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে সংগঠনটির ভূমিকা ততটা দৃশ্যমান নয়।
সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করেন, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন মূলত একটি নির্দিষ্ট পরিসরে নতুন নেতৃত্ব তৈরি, ব্যক্তিগত পরিচিতি বৃদ্ধি এবং কমিউনিটিতে প্রভাব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের সময় যে বিপুল অর্থ, জনবল ও সাংগঠনিক শক্তি সক্রিয় হয়, নির্বাচনের পর সেই তৎপরতা সাধারণ সদস্যদের কল্যাণে কতটা কাজে লাগে, তা নিয়ে তাঁদের প্রশ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিন জড়িত ব্যক্তিদের একটি অংশ মনে করেন, বাংলাদেশ সোসাইটি প্রবাসে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, জাতীয় দিবস উদযাপন, সামাজিক সংযোগ এবং কমিউনিটির ঐক্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে বিপদগ্রস্ত প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনেও সংগঠনটির ভূমিকা রয়েছে। তবে অতীতের এই অবদানকে অস্বীকার না করেও অনেকে জানতে চাইছেন, প্রায় অর্ধশতাব্দীর পুরোনো সংগঠনটি আজকের প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবর্তিত চাহিদা পূরণে কতটা প্রস্তুত? নতুন অভিবাসীদের আইনি পরামর্শ, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, প্রবীণদের সহায়তা, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, তরুণদের পেশাগত উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সরকারি সেবার তথ্য প্রদানে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না?
প্রশ্ন উঠছে অতীতের নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও। বিভিন্ন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা কমিটিগুলো কী কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, কতজন প্রবাসী সরাসরি উপকৃত হয়েছেন এবং সংগঠনের আয়-ব্যয়ের কতটা অংশ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়েছে—এসব বিষয়ে স্বচ্ছ ও তুলনাযোগ্য হিসাব প্রকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সচেতন সদস্যরা।
নির্বাচনকে ঘিরে আলোচিত ২০ লাখ ডলারের অঙ্কটিও অনেকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তাঁদের প্রশ্ন, এমন বিপুল অর্থের একটি অংশ যদি দীর্ঘমেয়াদি কমিউনিটি সেবা, শিক্ষাবৃত্তি, আইনি সহায়তা কিংবা প্রবীণদের কল্যাণে ব্যয় করা যেত, তাহলে কত মানুষ উপকৃত হতেন? তবে নির্বাচনের ব্যয় এবং সংগঠনের নিজস্ব তহবিলের ব্যয় এক বিষয় নয়। নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে প্রার্থী ও সমর্থকদের ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয়ের সঙ্গে সংগঠনের বার্ষিক বাজেটের সরাসরি তুলনা করা যায় না। তারপরও নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় যে পরিমাণ অর্থ ও সাংগঠনিক শক্তি নিয়োজিত হচ্ছে, সেই সামর্থ্য ভবিষ্যতে জনকল্যাণমূলক উদ্যোগেও কাজে লাগানোর প্রত্যাশা অমূলক নয়।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর রোববার সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটারদের সুবিধার্থে নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় পাঁচটি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
কুইন্সের উডসাইডে ৫৮ ম্যানর, ৫৮-০২ ৩৭ অ্যাভিনিউ; জ্যামাইকায় অঙ্গন পার্টি হল, ৮৯-১৬ ১৭৫ স্ট্রিট; ওজনপার্কে ম্যাজেস্টিক মার্কুইস, ৮৮-০৩ ১০১ অ্যাভিনিউ; ব্রুকলিনে কালামস হল, ৬৯ চার্চ অ্যাভিনিউ এবং ব্রঙ্কসে গোল্ডেন প্যালেস, ১৪৫১ ইউনিয়নপোর্ট রোডে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ভোটাররা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে নিজেদের ভোটার তথ্য, নির্ধারিত কেন্দ্র ও ভোটদানের টেবিল সম্পর্কে জানতে পারবেন।
পাঁচটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে উডসাইড ভোটকেন্দ্র ৫৮ ম্যানরে। ভোটগ্রহণ ও গণনার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর এখান থেকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
কে হচ্ছেন বাংলাদেশ সোসাইটির আগামী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, কোন প্যানেলের কতজন প্রার্থী বিজয়ী হচ্ছেন এবং নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে ফলাফলে।
বাংলাদেশ সোসাইটির এবারের নির্বাচনে ২১টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৩ জন প্রার্থী। সেলিম-আলী ও কুনু-ফিরোজ নামে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে ২১ জন করে মোট ৪২ জন রয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিমের প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন কুনু। সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ও ফিরোজ আহমেদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী রাব্বি ফজলে সৈয়দ লড়ছেন। ফলে সাধারণ সম্পাদক পদে হচ্ছে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
সেলিম-আলী প্যানেলের প্রার্থীরা : বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন সেলিম-আলী প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন- সভাপতি পদে আতাউর রহমান সেলিম, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে মোহাম্মদ মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহসভাপতি পদে মোহাম্মদ কামরুজ্জামান কামরুল, সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আলী, সহকারী সাধারণ সম্পাদক পদে হারুন অর রশিদ, কোষাধ্যক্ষ পদে মোহাম্মদ নওশাদ হায়দার, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোহাম্মদ জেড এইচ খান (ডিউক খান), সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মোস্তফা অনিক রাজ, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক পদে রিজু মোহাম্মদ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে মনসুর আহমেদ, সাহিত্য সম্পাদক পদে রুমানা আহমেদ, ক্রীড়া ও বিনোদন সম্পাদক পদে হাসান খান, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক পদে এ এস এম মঈন উদ্দিন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক সম্পাদক পদে শাহানাজ হোসেন এবং যুব ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোহাম্মদ উজ্জ্বল পিপুল, শামীম আহমেদ, সারওয়ার খান বাবু, মোহাম্মদ এ মান্নান, মোহাম্মদ আবদুল মালেক খান ও কাজী রবিউজ্জামান।
কুনু-ফিরোজ প্যানেলের প্রার্থীরা : সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন কুনু-ফিরোজ প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন- সভাপতি পদে আজমল হোসেন কুনু, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে দুলাল বেহেদু, সহ-সভাপতি পদে আবুল কালাম ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক পদে ফিরোজ আহমেদ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ নওশাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ পদে মুফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমি, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোহাম্মদ জামিল আনসারী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে আহমেদ আর চৌধুরী, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক পদে সৈয়দ গাউসুল হোসেন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে কয়েস আহমেদ, সাহিত্য সম্পাদক পদে মোহাম্মদ এ আখতার, ক্রীড়া ও বিনোদন সম্পাদক পদে মোরশেদ আলম, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক পদে মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক সম্পাদক পদে বেগম এম চৌধুরী এবং যুব ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক পদে কাজী আর হাসান।
কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সিরাজদুল্লাহ হক, মোহাম্মদ এ সিদ্দিক পাটোয়ারি, মোহাম্মদ আবদুল বাসির, মাশহুদুল হক সানু, মোহাম্মদ কাউসার আলম ও মোহাম্মদ এম ইসলাম।
দুই পূর্ণাঙ্গ প্যানেলের বাইরে সাধারণ সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রাব্বি ফজলে সৈয়দ।
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশন গত ১১ আগস্ট নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে। সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, ২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বাংলাদেশ ভবনে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হয়। ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কুইন্স প্যালেসে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন।
৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ৮ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। ৯ সেপ্টেম্বর আপিলের সুযোগ রাখা হয়। ১০ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারিত ছিল। পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় দুই পূর্ণাঙ্গ প্যানেলের ৪২ জনের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাধারণ সম্পাদক পদে রাব্বি ফজলে সৈয়দ এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে শক্তি দাস গুপ্ত মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। পরে শক্তি দাস গুপ্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। ফলে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় ৪৩ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।
প্রথমে ১৮ অক্টোবর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার সঙ্গে নির্বাচনের দিন মিলে যাওয়ায় বিভিন্ন মহল থেকে তারিখ পরিবর্তনের অনুরোধ আসে। পরে বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যনির্বাহী কমিটি, ট্রাস্টি বোর্ড ও নির্বাচন কমিশনের যৌথ সিদ্ধান্তে ভোটগ্রহণের দিন এক সপ্তাহ পিছিয়ে ২৫ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়।
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে সাত সদস্যের নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আবু নাসের। কমিশনের অন্য ছয় সদস্য হলেন বদরুল হোসেন খান, মোহাম্মদ শামসুদ্দিন আজাদ, মোহাম্মদ রুহুল আমিন সরকার, আহবাব চৌধুরী, মিঠু হামিদ ও মিয়া মোহাম্মদ দুলাল।
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে ভোটার তালিকা যাচাই, প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা, ভোটগ্রহণের আয়োজন, কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম তদারকি, ভোট গণনা এবং ফলাফল প্রকাশ।
এবার বিপুল ভোটারসংখ্যার কারণে নির্বাচন কমিশনকে বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। দ্বৈত ভোটার নিবন্ধনের বিষয়টিও কমিশনের নজরে এসেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের এর আগে জানিয়েছেন, প্রায় ৩০০টি দ্বৈত ভোটার নিবন্ধন শনাক্ত করে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাতে কেউ একাধিকবার ভোট দেওয়ার সুযোগ না পান।
বাংলাদেশ সোসাইটির এবারের নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে নির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধি। সংগঠনের গঠনতন্ত্র সংশোধনের মাধ্যমে কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ দুই বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করা হয়েছে।
একই সঙ্গে কার্যনির্বাহী পরিষদের পদসংখ্যা ১৯ থেকে বাড়িয়ে ২১ করা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় মহিলা ও শিশুবিষয়ক সম্পাদক এবং যুব ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদকের মতো পদ যুক্ত হয়েছে।
এবার নির্বাচিত নতুন কমিটি ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে। ফলে নতুন নেতৃত্ব সংগঠনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য তিন বছরের সময় পাবে।
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবে। একটি প্যানেল কিংবা দুই প্যানেলের বিভিন্ন প্রার্থী বিজয়ী হবেন। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সংগঠনের প্রতি সাধারণ সদস্যদের প্রত্যাশা শেষ হয়ে যাবে না; বরং নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব শুরু হবে।
৩৫ হাজারের বেশি ভোটারের একটি সংগঠন শুধু নির্বাচন আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আরও কার্যকর সামাজিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে, এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে নির্বাচিত নেতৃত্বের কর্মকাণ্ডের ওপর।
নির্বাচনের সময় ভোটারদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, সংগঠনের আর্থিক স্বচ্ছতা, সদস্যদের নিয়মিত সেবা, নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ এবং কমিউনিটির বৃহত্তর স্বার্থে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াই হবে নতুন নেতৃত্বের সামনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
নির্বাচনের জন্য যে বিপুল অর্থ, শ্রম, সময় ও সাংগঠনিক শক্তি ব্যয় হচ্ছে, নির্বাচিত হওয়ার পর সেই উদ্যম কতটা অব্যাহত থাকবে, সেটিও দেখার বিষয়।
সব প্রস্তুতি শেষে এখন অপেক্ষা ২৫ অক্টোবরের। পাঁচ কেন্দ্রে হাজার হাজার ভোটারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সোসাইটির বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন। নির্বাচনের ফলাফলে নির্ধারিত হবে আগামী তিন বছরের নেতৃত্ব। তবে ভোটের হিসাবের বাইরেও কমিউনিটির সামনে থেকে যাবে একটি বড় প্রশ্ন—**নেতৃত্ব পাওয়ার জন্য এত আয়োজন, এত প্রচারণা আর এত অর্থ ব্যয়; নেতৃত্ব পাওয়ার পর প্রবাসীদের জন্য তার কতটা প্রতিফলন ঘটবে?
সেলিম-আলী’ পরিষদের নির্বাচনী সভা, জ্যামাইকায় গণজোয়ার
বাংলাদেশ সোসাইটি ইন্ক-এর আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণা এখন তুঙ্গে। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত মেয়াদের সফল উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গঠিত শক্তিশালী প্যানেল ‘সেলিম-আলী’ পরিষদের পক্ষে এক বিশাল প্যানেল পরিচিতি ও নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করে ‘জ্যামাইকা নির্বাচন কমিটি’।
গত ১৬ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার সন্ধ্যায় জ্যামাইকার ঐতিহ্যবাহী অঙ্গন পার্টি হলে এই বর্ণাঢ্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে কুইন্স, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কসসহ নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন বরো থেকে শত শত সচেতন প্রবাসী এবং ভোটাররা সশরীরে উপস্থিত হয়ে প্যানেলটির প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ও গভীর আস্থা ব্যক্ত করেন।
জনসভায় উপস্থিত জ্যামাইকা প্রবাসী কমিউনিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও সচেতন ভোটাররা পুরো প্যানেলকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও বিশেষ সম্মানসূচক সংবর্ধনা জানান। বক্তারা বলেন, প্রবাসে নিজেদের একতা সুদৃঢ় রাখতে এবং বাংলাদেশ সোসাইটির চলমান উন্নয়নমূলক প্রজেক্টগুলোর সফল সমাপ্তির জন্য এই সুযোগ্য, সুপরিচিত ও পরীক্ষিত প্যানেলের কোনো বিকল্প নেই। তারা দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের প্রবাসীকে ‘সেলিম-আলী’ পরিষদের পাশে থাকার জোর আহ্বান জানান।
জনসভাটি সফলভাবে সম্পন্ন করায় জ্যামাইকা নির্বাচন কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। প্রধান সমন্বয়কারী সিরাজুল ইসলাম লিপন এর তত্ত্বাবধানে এই বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক দুলাল মিয়া এনাম, কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ও  চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি মাকসুদুল হক চৌধুরী, জ্যামাইকা নির্বাচন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী সিরাজুল ইসলাম লিপন, জ‍্যামাইকার সেন্টারের  আহ্বায়ক মোঃ ফারুক হোসেন মজুমদার, সদস্য সচিব জে মোল্লা সানি, যুগ্ম আহবায়ক জহিরুল ইসলাম, সদ‍স্য  সচিব কাজী এম আর খান সেলিম, যুগ্ম সদস্য সচিব ইসলাম হোসেন স্বপন, যুগ্ম আহবায়ক ফারুক হোসেন ও শামীম হাসান। 
অনুষ্ঠানে সভাপতি পদপ্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আলী ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নির্বাচিত হলে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। 
তারা প্রতিশ্রুতি দেন যে, আগামী দিনে সোসাইটিকে পুরোপুরি আধুনিক ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা হবে। ওয়ান স্টপ সলিউশন ও স্থায়ী কমিউনিটি সেন্টার’ গঠন করা হবে যেখানে আরও বড় পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। নিউইয়র্কে আসা নতুন প্রবাসী এবং ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান দেওয়া হবে। নতুন প্রবাসীদের কর্মসংস্থান ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ প্রোগ্রাম চালু করা হবে। সেকেন্ড জেনারেশন বা নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় সংস্কৃতি ও বাংলা ভাষাকে টিকিয়ে রাখতে তথা স্থায়ী ভবনে আরও বড় পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রবীণ প্রবাসীদের নিয়ে একটি মেন্টরশিপ নেটওয়ার্ক এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে কাউন্সেলিং সেলের ব্যবস্থা রাখা হবে।
প্যানেলের প্রার্থীদের প্যানেল পরিচিতি  ও গণসমর্থন সভায় সেলিম-আলী পরিষদের প্রার্থীরা উপস্থিত থেকে প্রবাসীদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং বক্তব্য রাখেন। 
এদিকে, ‘সেলিম-আলী’ পরিষদের সমর্থনে ১৯ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যায় জ্যামাইকার ঐতিহ্যবাহী ধানসিঁড়ি রেস্টুরেন্টের সামনে এক বিশাল ‘বারবিকিউ পার্টি’ ও নির্বাচনী আড্ডার আয়োজন করে ‘জ্যামাইকা নির্বাচন কমিটি’। অনুষ্ঠানে কুইন্স ও জ্যামাইকা অঞ্চলের শত শত সচেতন প্রবাসী এবং ভোটাররা সশরীরে উপস্থিত হয়ে প্যানেলটির প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ও গভীর আস্থা ব্যক্ত করেন।  

ওজোনপার্কে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের সভায় মানুষের ঢল 
বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে ‘পরিবর্তনের স্লোগান’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের উদ্যোগে ওজনপার্কে আয়োজিত নির্বাচনী ও প্যানেল পরিচিতি সভায়
 মানুষের ঢল নামে। সভাপতি পদপ্রার্থী আজমল হোসেন কুনুর এলাকা ওজনপার্ককে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের ঘাঁটি উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে ওজনপার্কসহ সব কেন্দ্রে জয়ী হয়ে তাঁরা প্রবাসীদের ন্যায্য দাবি পূরণ করবেন।
সভায় কুনু বলেন, ওজনপার্কবাসী হিসেবে আমি সবার সহযোগিতা চাই, ভোট চাই। আমার আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। কমিউনিটির সেবাই আমার লক্ষ্য। এটাই আমার শেষ নির্বাচন। 
তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে সোসাইটি ও কমিউনিটিকে শক্তিশালী করবেন।
সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদ বলেন, আমরা নির্বাচিত হলে সোসাইটিকে সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত রাখবো। সোসাইটিকে সবার সংগঠনে পরিণত করবো এবং জবাবদিহিমূলক সোসাইটি গড়বো।
গত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওজোনপার্কের আল মদিনা পার্টি হলে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের উদ্যোগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির উপস্থিতিতে সভাটি জনসভায় রূপ নেয়। অনেকেই রেস্টুরেন্টে বসার বা দাঁড়ানোর জায়গা না পেয়ে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে সভায় অংশ নেন। সন্ধ্যা ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সভার কার্যক্রম চলে।
‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের ওজনপার্ক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা রফিক উদ্দিন।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সাবেক ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য এবং ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা জামাল আহমেদ জনি। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটি ও গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটির সাবেক সভাপতি আব্দুর রব মিয়া; ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান বেলাল মাহমুদ, আহ্বায়ক রুহুল আমীন সিদ্দিকী, কো-চেয়ারম্যান ও বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতি ইউএসএর সভাপতি ইউনুস সরকার, প্রধান সমন্বয়কারী বাবুল চৌধুরী, অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম এবং মিডিয়া ও কমিউনিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আজাদ।
বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সহ-সভাপতি ও কুইন্স নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা সরোয়ার হোসেন, ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী দুলাল বেহেদু, সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী ও সোসাইটির বর্তমান সহ-সাধারণ সম্পাদক কালাম ভূঁইয়া, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক মোর্শেদ আলম এবং কার্যকরী সদস্য আবুল বাশার ভূঁইয়া।
যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ও ওজনপার্ক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মির্জা মাহমুদুল হাসান।
আজমল হোসেন কুনু বলেন, সোসাইটিতে আগে সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছি। কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বা আশ্বাস দেবো না। কমিউনিটির সেবায় যা করা দরকার, তা-ই করবো এবং এ কাজে সবার সহযোগিতা নেবো। বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেবো। 
তিনি আরো বলেন, সোসাইটিকে গণমুখী করতে দেশের ৬৪ জেলা থেকে ৬৪ জনকে নিয়ে উপদেষ্টা কমিটি গঠন করবেন। দেশের আট বিভাগ থেকে আরো আটজনকে যুক্ত করে ট্রাস্টি বোর্ড ২০ সদস্যের করা হবে।
ফিরোজ আহমেদ বলেন, পৃথিবীতে বাংলা ভাষাভাষীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি। আমরা জবাবদিহিমূলক সোসাইটি গড়তে চাই। ইফতার মাহফিলের নামে অপচয় না করে অর্থ সাশ্রয়ী অনুষ্ঠান করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। 
আরো কবর কেনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফিরোজ বলেন, বর্তমান কমিটি গত নির্বাচনে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সোসাইটির নেতৃত্বে পরিবর্তন দরকার, আর সেই পরিবর্তনের জন্যই তাঁরা প্রার্থী হয়েছেন।
জামাল আহমেদ জনি বলেন, ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের কাছ থেকে গত নির্বাচনে অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছিলাম, কিন্তু তার কোনো বাস্তবায়ন নেই। 
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইফতারে ৯০ হাজার ডলার কীভাবে খরচ হয় এবং এতে জনগণের অর্থের অপচয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। আজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজ আহমেদকে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি উল্লেখ করে তিনি ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলকে জয়ী করার আহ্বান জানান।
সভায় বাবুল চৌধুরী উপস্থিত ভোটারদের ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলকে ভোট দেয়ার পদ্ধতি তুলে ধরেন। বক্তারা বর্তমান কমিটির আয়-ব্যয়ের হিসাব দাবি করেন এবং কবর কেনা না-হওয়ার সমালোচনা করেন। তাঁরা ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলকে যোগ্য প্যানেল উল্লেখ করে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান। 
বক্তারা বলেন, ‘আজমল হোসেন কুনু ওজনপার্কের মানুষ, আমাদের ঘরের মানুষ। তাঁর সম্মান মানেই ওজনপার্কের সম্মান। তাঁর সম্মান রাখতে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলকে জয়ী করতে হবে।
সভায় প্যানেলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন জামাল আহমেদ জনি। 

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz