বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন
ফ্রিস্টাইলে দাইন মারার মচ্ছব ♦ খাটছে জামায়াত ♦ দিল্লির কোরামিনে আ.লীগ

হিডেন ডিজঅর্ডারে বিধ্বস্ত বিএনপি

হিডেন ডিজঅর্ডারে বিধ্বস্ত বিএনপি

বিজ্ঞাপন
দমন দূরে থাক, নিয়ন্ত্রণেও আনা যাচ্ছে না মতলববাজদের। যে যেদিক দিয়ে পারছে দাইন মারছে। মওকা হাসিল করছে। কারও চাল, ডাল, তেল, সারে কারসাজি, চালবাজি, তেলবাজিতে আখের গোছাতে যারপরনাই ব্যস্ততা। কেউ ব্যস্ত টেন্ডারসহ সরকারি কেনাকাটা, তদবিরবাজিতে শত নয়, হাজার হাজার কোটি টাকা হাতানোতে। সবাই কম-বেশি কামিয়াবি। সরকারি-বেসরকারি উভয় দিকেই বিনিয়োগ-নিয়োগে বন্ধ্যাত্ব। আগামী কয়েক বছরে নতুন লাখ লাখ শিক্ষিত যুবকের বেকার হওয়ার শঙ্কা। পুরোনোরা চাকরিচ্যুত হচ্ছে সমানে। সামগ্রিক অর্থনীতির চাপ চ্যাপ্টা করে ফেলছে দেশকে। জ্বালানি সংকট, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব আদায়ে সীমাবদ্ধতা বাড়াচ্ছে অর্থনীতির ওপর চাপ।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো অবিরাম দিচ্ছে মন্দ আভাস। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের মন্থর গতি, আয় বৃদ্ধির তুলনায় মূল্যস্ফীতির উচ্চ চাপ এবং সরকারি ঋণের বোঝা বৃদ্ধি ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিয়েও তৈরি করছে উদ্বেগ। এমন উদ্বেগজনক অর্থনৈতিক অবস্থার মাঝেও লুটপাটের মচ্ছব থেকে সরছে না মতলববাজরা। কোনো আইটেমই হাতছাড়া করছে না তাদের সিন্ডিকেট। তার ওপর রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ঘাপলা। একদিকে সারা দেশে গরিব মানুষ খুঁজে বের করতে সরকার দুই হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ করছে, অন্যদিকে ঠিক সেই সময়ে কোনো ধরনের টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই ৭০০-৮০০ কোটি টাকার কৃষক কার্ড প্রকল্পটি রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের একজনের একজনের বন্ধুর কোম্পানির কব্জা করার আয়োজন। খাল খননসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজও গত পাঁচ মাস ধরে কন্ট্রাক্ট-সাব কন্ট্রাক্টে ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগ। ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের জন্য ৩৪২ কোটি টাকার ট্যাবলেট/প্যাড কেনার কাজ পেতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাতিজার মালিকানাধীন কোম্পানির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ।
গ্যাস সংকটকে কাজে লাগিয়ে সাগরে তৃতীয় টার্মিনাল স্থাপন করে বিএনপির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এমপি মুশফিকুর রহমানের নাতির পকেট ভারী করার অভিযোগও বেশ প্রচারিত। কয়েক মন্ত্রী-এমপির পরিবারকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর আই হ্যাভ আ প্ল্যান, মিতব্যয়, নামমাত্র খাওয়া-দাওয়ার প্রচারকে মাঠে মেরে ফেলছে। অর্থ, বিমানসহ আরও কয়েক মন্ত্রীর সন্তান, স্বজন-পরিজনদের দুর্নীতিও ব্যাপক প্রচারিত। এ নিয়ে বেশ খাটছে বিরোধী দল জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট। এসব অভিযোগের তথ্য-সাবুদের কিছু তারা দাখিল করছে বিভিন্ন জায়গায়। কিছু রাখছে নিজেদের তথ্যের সিন্দুকে। গোটা বিষয়টি নাকানি-চুবানিতে চব্বিশে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের জন্য পুলকের। শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরছেন আওয়াজ দিয়ে মজা দেখছেন। নানান সূত্রের তথ্যমতে, তিনি আসলে ফিরছেন না। ভারতই তাকে ফিরতে দিচ্ছে না বলে তথ্যও আছে। ভারতের মনোযোগ বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার এবং বিশেষ করে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে।
ঐতিহাসিক দায়িত্বের মতো কোরামিন দিয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে রাজনীতিতে পুনর্বাসন ও আওয়ামী লীগকে প্রাসঙ্গিক রাখার চেষ্টা করছে দিল্লি। গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের খবর ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র দেশব্যাপী এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল হলো চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের লালন-পালনকারী এবং আশ্রয়দাতা। একের পর এক নানা ঘটনায় তা বাজারও পাচ্ছে। গুরুতর অভিযোগে একজন এমপিকে পদ ছাড়তে হলো, আরেকজন প্রতিমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে বিএনপির তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের এক সংসদ সদস্যের সংসদ ছাড়ার ঘটনা সরকারের রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা, মন্ত্রীদের আচরণ এবং জবাবদিহির কাঠামো নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। চারজনের বিদায়ের কারণ ভিন্ন ভিন্ন। কারও পদত্যাগের কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার কথা বলা হয়েছে, কারও ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের ঘটনা রয়েছে। অন্যদিকে দুই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদ ছাড়ার ঘটনা রাজনৈতিক ও আইনি জবাবদিহির প্রশ্নকে সামনে এনেছে। সর্বশেষ ১৯ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘোষণা এই আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে। রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তার উপস্থিতি এবং সেই অভিযানের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশের পর ইশরাকের পদত্যাগ সরকারের জন্য তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক চাপ সামলানোর একটি পদক্ষেপ হলেও এর জের দীর্ঘ হতে পারে। এর আগে ১ জুন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় সাড়ে তিন মাসের মাথায় পদত্যাগ করেন। এতে তার শারীরিক অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হলেও বেশি দূর গড়ায়নি। ২২ আগস্ট তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর পদ ছাড়েন জহির উদ্দিন স্বপন। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের পটভূমি গুরুতর। ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং স্থাপনা ভেঙে ফেলার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। ২৪ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। ১ অক্টোবর তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং সংসদ সচিবালয় তার আসন শূন্য ঘোষণা করে। এসব ঘটনার মধ্যে রকমফের থাকলেও সরকারের ও দলের ভেতরের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি স্পষ্ট। ঘটনাগুলো রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যে ঠাসা।
 

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz