রিমান্ড শেষে কারাগারে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা দেবাশীষ-গুলশান
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০০:৪০
•
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট গুলশান আরাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান এই আদেশ দিয়েছেন।
গত ১১ অক্টোবর রাতে ঢাকার দুটি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আলী আকবর এই মামলা দায়ের করেন। পরদিন গত ১২ অক্টোবর তাদের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
রিমান্ড শেষে শুক্রবার তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ইন্সপেক্টর শেখ বশির আহমেদ।
আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান রুকু, মো. মশিউর রহমান জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, আসামিরা নিজ বাসায় অবস্থান করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা এবং বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি নামে সরকার বিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সাথে যুক্ত থেকে তহবিল সংগ্রহ ও সহিংস উসকানিমূলক ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক প্ল্যাটফর্মে প্রচার করছেন। এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ইউনিটি কেয়ার ও পাবলিক পার্লামেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান (অব.) আজিজ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতাদের সাথে যোগাযোগ রেখে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রবিরোধী সংগঠিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কালআজকাল.কম নামক পেজ তৈরি করে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার মতো কন্টেন্ট তৈরি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা এবং ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম প্রচার ও পরিচালনা করছেন।
এতে আরও বলা হয়, কাজী গুলশান আরা ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর নির্বাচনের প্রাক্কালে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সাথে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে একাত্মতা ও আনুগত্য প্রকাশ করেন। আসামিদের সহযোগী ১০১ জন আসামিদের নিয়ে যথাক্রমে সেনা পরিষদ নামে একটি কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনের কাজ মূলত দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-গোষ্ঠীর ভেতরে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা এবং তারা সুপরিকল্পিতভাবে নিজেরা অংশগ্রহণ করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিভিন্ন উৎসবে অংশগ্রহণ করে আইনিভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞা প্রকাশ করে বিদ্বেষ সৃষ্টি করেছেন।