বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

ক্যানসারে আক্রান্ত পোপ লিও, ডান ফুসফুসের একাংশ অপসারণ

ক্যানসারে আক্রান্ত পোপ লিও, ডান ফুসফুসের একাংশ অপসারণ

বিজ্ঞাপন
ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মগুরু পোপ লিও। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রোমের জেমেলি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার ডান ফুসফুসের একটি অংশ অপসারণ করা হয়। ভ্যাটিকানের প্রকাশিত মেডিকেল বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ৭১ বছর বয়সী পোপের জন্য এটি বড় ধরনের স্বাস্থ্যগত ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর রয়টার্সের। 

ভ্যাটিকানের তথ্য অনুযায়ী, পোপ লিওর ফুসফুসে অ্যাডেনোকার্সিনোমা শনাক্ত হয়েছে। এটি ফুসফুসের ক্যানসারের একটি পরিচিত ধরন। অস্ত্রোপচারের সময় নেওয়া টিস্যুর পরীক্ষায় চিকিৎসকদের আগের সন্দেহের সত্যতা পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় তার ফুসফুসে অস্বাভাবিক টিস্যু বা টিউমার ধরা পড়ে। এরপর সেটি অপসারণের জন্য মঙ্গলবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পোপের প্রধান শল্যচিকিৎসক ডা. স্তেফানো মার্গারিতোরা এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. লুইজি কারবোনের বিবৃতি অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারটি প্রায় ৯০ মিনিট স্থায়ী হয়। কোনো জটিলতা ছাড়াই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।

চিকিৎসকেরা জানান, ক্যানসার নিরাময়ের উদ্দেশ্যে ভিডিও-সহায়তাপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তার ডান ফুসফুসের নিচের খণ্ডটি অপসারণ করা হয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল ক্যানসার আক্রান্ত সব টিস্যু সরিয়ে ফেলা।

মানুষের ফুসফুসে মোট পাঁচটি খণ্ড থাকে। ডান ফুসফুসে তিনটি এবং বাম ফুসফুসে দুটি খণ্ড রয়েছে।

তবে অস্ত্রোপচার সফল হলেও পোপের ক্যানসার কতটা বিস্তৃত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। টিউমারের আকার এবং ক্যানসার লসিকাগ্রন্থিতে ছড়িয়ে পড়েছে কি না—এসব তথ্য জানা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুসফুসের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. স্টিফেন লিউ রয়টার্সকে বলেন, রোগ নির্ণয় করা গেলেও ক্যানসারের পর্যায় এখনও জানা যায়নি। রোগীর ভবিষ্যৎ অবস্থা ও চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণে এ তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডা. স্টিফেন লিউ বলেন, টিউমার ছোট হলে এবং লসিকাগ্রন্থিতে ক্যানসার না ছড়ালে অস্ত্রোপচারেই রোগ নিরাময় সম্ভব হতে পারে। তবে পরবর্তী পরীক্ষায় ক্যানসারের বিস্তার বেশি পাওয়া গেলে রোগের পূর্বাভাস তুলনামূলক খারাপ হতে পারে।

ভ্যাটিকানের মেডিকেল বুলেটিনে বলা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর পোপ লিওর স্বাভাবিকভাবেই জ্ঞান ফিরে আসে। পরে তাকে হাসপাতালের কক্ষে নেওয়া হয়, যেখানে তিনি বিশ্রাম নিচ্ছেন।

এর আগে ভ্যাটিকান জানিয়েছিল, তাকে প্রায় এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। এ ছাড়া ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তার সব প্রকাশ্য কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।

অস্ত্রোপচারের আগে মঙ্গলবার দুপুরের কিছুক্ষণ আগে ভ্যাটিকান ত্যাগ করেন পোপ। কালো রঙের একটি গাড়িতে করে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরের জেমেলি হাসপাতালে যাওয়ার সময় গাড়ির পেছনের অংশ থেকে তাকে হাত নাড়তে দেখা যায়।

হাসপাতালে পৌঁছে কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে করমর্দন করেন তিনি। এ সময় বাইরে অপেক্ষায় থাকা শুভাকাঙ্ক্ষীদের কেউ কেউ তাকে ইতালীয় ভাষায় ‘আগুরি’ বলে শুভকামনা জানান।

২০২৫ সালের মে মাসে ক্যাথলিক চার্চের কার্ডিনালদের ভোটে পোপ নির্বাচিত হন লিও। তার জন্ম ১৯৫৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে। তার আসল নাম রবার্ট প্রেভোস্ট।

পোপ হওয়ার আগে তিনি কয়েক দশক ধরে পেরুতে ধর্মপ্রচারক ও বিশপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ৭১ বছর বয়সে তিনি চার্চের নেতৃত্বে তুলনামূলকভাবে কম বয়সী ধর্মগুরুদের একজন।

আগামী ৬ থেকে ১৭ নভেম্বর উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও পেরু সফরের কথা রয়েছে তার। তবে অস্ত্রোপচার ও ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর নির্ধারিত সফরটি অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

এর আগে প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিস জীবনের শেষদিকে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ৮৮ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।

পোপ লিওর অতীতেও গুরুতর অসুস্থতার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ১৯৮৫ সালে পেরুর চুলুকানাসে তরুণ যাজক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

পোপ হওয়ার পর দেওয়া তার একমাত্র বড় সাক্ষাৎকারে, পেঙ্গুইন পেরু প্রকাশিত একটি বইয়ে, সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। লিও জানান, সে সময় ব্যথা এতটাই তীব্র ছিল যে তিনি ঈশ্বরের কাছে মৃত্যুকামনা করেছিলেন, যাতে আর কষ্ট সহ্য করতে না হয়।
 
তবে সুস্থ হয়ে ওঠার পর ঘটনাটিকে তিনি পৃথিবীতে তার দায়িত্ব পালনের জন্য ঈশ্বরের একটি সংকেত হিসেবে দেখেছিলেন। তার ভাষায়, ‘তার মনে হয়েছিল, ঈশ্বর বলছেন—পৃথিবীতে আমাদের তোমাকে প্রয়োজন।’

বিশ্বের প্রায় ১৪০ কোটি ক্যাথলিক খ্রিষ্টানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ। তার অসুস্থতার সময় দায়িত্ব নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো উপ-পোপ নেই।

তবে পোপ অসুস্থ হয়ে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলেও ভ্যাটিকানের প্রশাসনিক কার্যক্রম সাধারণত চলতে থাকে। যেসব সিদ্ধান্তের জন্য সরাসরি পোপের অনুমোদন প্রয়োজন, সেগুলো তার অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকতে পারে।

ঠিকানা/এসআর

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz