মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :
• চুয়েটে না ফেরার শর্তে পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়লেন ভিসি • নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হয়রানি, তীব্র নিন্দা সরকারের • তরুণদের ভূমিকার কারণেই দেশ আবার ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে : রিজভী • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ • ছাত্ররা জীবন না দিলে তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারতেন না : নাহিদ ইসলাম • দেশে একদিনে ডেঙ্গুতে আরও ৯ প্রাণহানি, মোট মৃত্যু ৩১৬ • বিশ্বরেকর্ড গড়লেন লিটন দাস • রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবালসহ ৮ জনের ১৪ বছরের কারাদণ্ড • ডেঙ্গু প্রতিরোধে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর • দেশে হাম উপসর্গে আরো ৬ জনের মৃত্যু

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড

অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড

ছবি : সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
২০২৬ সালে অর্থনীতিতে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন মার্কিন অর্থনীতিবিদ রবার্ট ই হল এবং মাইকেল উডফোর্ড। ১২ অক্টোবর (সোমবার) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে তাদের নাম ঘোষণা করে রয়েল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস।

অর্থনীতির উত্থান-পতন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতি প্রণয়নের পথ দেখিয়েছেন চলতি বছরের অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড। তাদের উদ্ভাবিত নতুন সামষ্টিক অর্থনৈতিক মডেল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণের সক্ষমতা বাড়িয়েছে।

অর্থনীতিতে কখনও মন্দা দেখা দেয়, আবার কখনও দ্রুত প্রবৃদ্ধি ঘটে। প্রায় এক শতাব্দী আগে অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনসের তত্ত্বের পর থেকে এসব ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে স্থিতিশীলতামূলক নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অর্থনৈতিক মন্দার সময় সুদের হার কমানো ও সরকারি বাজেট ঘাটতি বাড়ানোর মাধ্যমে চাহিদা বাড়ানো হয়। বিপরীতে, অর্থনীতি অতিরিক্ত চাঙা হয়ে উঠলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানো ও সরকারি ব্যয় কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

তবে ১৯৭০-এর দশকে তেলসংকটের সময় কেইনসীয় অর্থনৈতিক মডেলগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এসব নীতি বেকারত্ব কমাতে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেয় বলে সমালোচনা করা হয়। ওই দশকে পশ্চিমা দেশগুলো নিম্ন প্রবৃদ্ধি, উচ্চ বেকারত্ব ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মুখে পড়ে। ফলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচলিত নীতিগুলো কতটা কার্যকর, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

এই পরিস্থিতিতে রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড সামষ্টিক অর্থনৈতিক মডেলকে নতুনভাবে গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থিতিশীলতামূলক নীতিকে কার্যকর করার পথ দেখান। মূল্যস্ফীতি, উৎপাদন ও ভোগের মতো অর্থনৈতিক সূচকের মধ্যকার পরিসংখ্যানগত সম্পর্কের ওপর নির্ভর না করে তারা মডেলগুলোকে ক্ষুদ্র অর্থনীতির ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করেন। এতে ব্যক্তি, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত কীভাবে সামগ্রিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে, তা বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হয়।

এই মডেলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সঞ্চয়, ব্যয় ও পণ্যের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয়। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের অর্থনৈতিক নীতির পরিকল্পনা ও ঘোষণা দিয়ে মানুষের ভবিষ্যৎ প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করতে পারে। এর মাধ্যমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ আরও কার্যকর করা সম্ভব হয়।

অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জন হাসলারের মতে, হল ও উডফোর্ডের কাজ বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারগুলোর ব্যবহৃত অর্থনৈতিক মডেলগুলোর জন্য একটি শক্তিশালী তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানিসংকট কিংবা পরিবারের ভোগব্যয়ে আকস্মিক পরিবর্তনের মতো অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় এসব মডেল নীতিনির্ধারকদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন অর্থনীতিবিদ জোয়েল মোকির, ফিলিপ আগিয়োঁ ও পিটার হাউইট। উদ্ভাবননির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাখ্যা করার জন্য তারা এ পুরস্কার পান।

এর আগে, ৯ অক্টাবর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী নাভানেথেম নাভি পিল্লাই। এছাড়াও ৮ অক্টাবর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান কানাডীয় কবি ও লেখক অ্যান কারসন, ৭ অক্টোবর রসায়নে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান ফরাসি রসায়নবিদ হেনরি কাগান এবং জাপানি রসায়নবিদ কেনসো সোয়াই। গত ৬ অক্টোবর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান বেলজিয়ামের পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজ্যান। আর ৫ অক্টোবর চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পান মার্কিন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও নিউরোলজিস্ট কার্ল ডাইসেরথ এবং জার্মান বিজ্ঞানী পিটার হেগেমান ও জর্জ নাগেল।

১৯০১ সালে আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছাপত্র অনুযায়ী নোবেল পুরস্কার প্রদান শুরু হয়। ডিনামাইট আবিষ্কারক নোবেল তার যাবতীয় সম্পদ উৎসর্গ করেন মানবতার কল্যাণে, বিশেষ করে চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য ও শান্তিক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি দিতে। পরে অর্থনীতিকে যুক্ত করা হয়, যার অর্থায়ন করে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রতিবছর পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ কমিটি। চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য ও অর্থনীতিতে নোবেল প্রদান করা হয় সুইডেনের স্টকহোমে, আর একমাত্র শান্তিতে নোবেল দেওয়া হয় নরওয়ের রাজধানী অসলোতে।

ঠিকানা/এএস 

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz