শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, এর বিকল্প নেই
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৪
•
অনলাইন সংস্করণ
ছবি ঠিকানা
জুলাই হত্যাকাণ্ডের অনেক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসামি। কিছু রায় হয়েছে। আরও বিচারাধীন আছে। চব্বিশের ৫ আগস্ট থেকে হাসিনা ভারতে আছেন। এটা অবশ্যই একটি সংকট। তবে দেশে ফিরলে শেখ হাসিনাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। এসব কথা বলেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হারুনুর রশীদ।
ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে তিনি আরও বলেন, ‘বিগত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী সরকার দেশে নানা সমস্যা তৈরি করে গেছে। এসব সংকট এখনো আছে। এগুলো রাতারাতি সমাধান হবে না, সময় লাগবে। কিন্তু জামায়াত যেভাবে ৩ মাসের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে গেল, এটা গ্রহণযোগ্য নয়। নতুন একটি সরকারের বিরুদ্ধে তাদের লংমার্চ কেন?’
৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এই টকশোতে অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন বিবিসি বাংলার সাবেক প্রধান সাবির মুস্তাফা। নিউইয়র্ক সময় বেলা ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) যা সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন ইউটিউব চ্যানেলে। সরকার, রাজনীতি ও প্রশাসনের নানা বিষয়ে কথা বলেন দুই অতিথি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরতে পারেন, গত কয়েক মাস ধরেই চলছে এই আলোচনা। এটা ঘটবে কি না এ বিষয়ে নিশ্চিত নন সিনিয়র সাংবাদিক সাবির মুস্তাফা। তবে তিনি বলছেন, ‘শেখ হাসিনা ফিরলে সেই ঘটনা বিএনপির সরকারের জন্য হজম করা কঠিন হবে। কারণ তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো সহজ হবে না। আবার তাকে কারাগারে রাখলে আওয়ামী লীগ চাঙা হয়ে যেতে পারে। তাই হাসিনার ফেরার বিষয়টি সরকারি দলের জন্য উভয়সংকট।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার জন্য দুই দফা চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। ফ্রান্স থেকে কেনা হচ্ছে এয়ারবাসও। আর চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চুক্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিবিসি বাংলার সাবেক প্রধান সাবির মুস্তাফা বলেন, ‘তারেক রহমান সরকার অনেক ক্ষেত্রেই ইউনূস সরকারের ধারাবাহিকতা ধরে রাখছে। বিভিন্ন চুক্তি এগিয়ে নিচ্ছে। বিমানবন্দর বা বন্দরের বিষয়গুলোতে যদি আধুনিকীকরণে চিন্তা থাকে, তাহলে ভালো খবর। কিন্তু কাউকে খুশি করার বিষয় থাকলে সেটা অন্যভাবে দেখতে হবে।’
বিএনপি সরকার নিজস্বতা নিয়ে কাজ করছে, তারা অন্তর্বর্তী সরকারের একধরনের পরিবর্ধিত রূপ, এমন কথা মানতে রাজি নন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর ও বন্দরের সেবার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। এগুলোর সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে পারেনি। নতুন উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই আধুনিকায়নের ভাবনা আছে। আর বন্দরে ডিপি ওয়ার্ল্ড যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই এসেছে।’
তবে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দলের ভেতরেও আলোচনা আছে বলে জানালেন সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘এই চুক্তিতে যদি কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে আলোচনা ও সংশোধনের সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি। দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু থাকলে অবশ্যই যাচাই করা হবে।’