বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা, আটক ১
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০০:৪৭
•
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় নির্মাণাধীন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনায় আব্দুর রহমান সম্রাট নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
এর আগে ৬ অক্টোবর (মঙ্গলবার) দুপুরে মহাসড়কের সড়কদ্বীপে স্থাপিত ভাস্কর্যটির মাথায় রশি দিয়ে বাঁধা জুতার মালা ঝুলতে দেখা যায়।
পরে এর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলা জুড়ে ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাস্কর্যটির মাথা থেকে জুতার মালাটি সরিয়ে ফেলেন।
স্থানীয়রা জানান, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার সড়কদ্বীপে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের সাদা রঙের নির্মাণাধীন ভাস্কর্যটির মাথায় জুতার মালা ঝুলতে দেখেন পথচারীরা। পরে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
ঘটনার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় জেলা পুলিশ সুপার মিঞা মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান কামাল, ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাগ্নেসহ স্থানীয় সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান কামাল বলেন, ‘খবর পেয়েই আমরা লোক পাঠিয়ে অবমাননাকর ওই বস্তু সরিয়ে নিয়েছি। এটি শুধু নিন্দনীয়ই নয়, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হৃদয়ে চরম রক্তক্ষরণের কারণ।
মুক্তিসংগ্রামের শ্রেষ্ঠ নায়কের প্রতি এই ঘৃণ্য আচরণ পুরো জাতির জন্য চরম অপমানজনক। আমরা অনতিবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।’
ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিঞা মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরপরই আমরা উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত বৈঠক করেছি। জেলা পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম ও গোয়েন্দা শাখা ইতোমধ্যে মাঠে সক্রিয় রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পেয়েছি।
আশা করছি খুব দ্রুতই দুষ্কৃতকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’
জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও বীরশ্রেষ্ঠের প্রতি এমন অবমাননা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জরুরি সভা শেষে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের পেছনে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনায় হামদহ এলাকা থেকে আব্দুর রহমান সম্রাটকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কমিটি গঠন করা হয়েছে।