শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :
• ব্যাংক আমানত ফেলে রাখলে বাড়তে পারে জটিলতা • সুরে, নৃত্যে, কথায় : অনুভবের সন্ধ্যা  বিপার মঞ্চে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে  সংস্কৃতির যাত্রা • মেসির বিদায়ি জার্সি রিভার প্লেটের জাদুঘরে • ৬২ প্রিসিঙ্কটের কমান্ডিং  অফিসার ডেপুটি  ইন্সপেক্টর সাইফুল • সিজেপিকে মোকাবিলায় নয়াদিল্লিতে ২৫ হাজার পুলিশ, ৩ শতাধিক ক্যামেরা • পানামায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, ৯ দেশে সুনামি সতর্কতা জারি • মঞ্চ মাতালেন ইমরান, কণা ও ঝিলিক • নিউইয়র্কে হামের  সংক্রমণ বেড়েছে • ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন আর নেই • জে-১ ভিসা নিয়ে কড়াকড়ি, হার্ভার্ড-ইয়েলসহ ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের যৌথ প্রতিরক্ষা কার্যকর

সৌদিতে দ্রুত সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত পাকিস্তান-তুরস্কের

সৌদিতে দ্রুত সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত পাকিস্তান-তুরস্কের

ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় সরাসরি সামরিক সহযোগিতার পথে এগোল পাকিস্তান ও তুরস্ক। ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’-এর যৌথ প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার অবিলম্বে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। এর আওতায় পূর্বসম্মত সেনা ও সামরিক সক্ষমতা দ্রুত সৌদি আরবে মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রিয়াদে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কৌশলগত কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বৈঠকের মূল বিষয় ছিল সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা হুমকি এবং তা মোকাবিলায় তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কার্যকর করা।

বিবৃতিতে মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে হামলার প্রচেষ্টার পাশাপাশি সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, বেসামরিক স্থাপনা ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ওপর চলমান হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। তিন দেশ বলেছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে যেকোনো হামলা বা হুমকি তারা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।

বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো যৌথ প্রতিরক্ষা অঙ্গীকারকে কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তব পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত ব্যবস্থা এবং সদস্যদেশগুলোর নিজস্ব আইন অনুসরণ করে সম্মত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা সৌদি আরবে দ্রুত মোতায়েনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর লক্ষ্য সামরিক প্রস্তুতি ও পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি যেকোনো হুমকি সম্মিলিতভাবে মোকাবিলার সক্ষমতা জোরদার করা।

এর ফলে গত আগস্টে গঠিত ত্রিদেশীয় প্রতিরক্ষা কাঠামোটি কার্যত নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করল। মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল নীতি অনুযায়ী, জোটের কোনো একটি সদস্যরাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তার ওপর আঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

বৈঠকে পাকিস্তান ও তুরস্ক সাম্প্রতিক হুমকি মোকাবিলায় সৌদি সশস্ত্র বাহিনীর সতর্কতা, প্রস্তুতি ও পেশাদার ভূমিকার প্রশংসা করেছে। তিন দেশ বলেছে, প্রত্যেক সদস্যরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অন্য দুই দেশের নিরাপত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে বাস্তব সামরিক ব্যবস্থায় রূপ দেওয়ার মাধ্যমে জোটের প্রতিরোধক্ষমতা এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা আরও শক্তিশালী হবে।

একই বৈঠকে জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নওমান মাহমুদকে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জোটের স্থায়ী সচিবালয় সৌদি আরবে প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল।

সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান বলেছেন, জরুরি বৈঠকটি সৌদি আরব ও পবিত্র স্থানগুলোর বিরুদ্ধে হামলা মোকাবিলায় তিন দেশের সংহতি ও অভিন্ন অবস্থানের প্রতিফলন। তিনি জানান, হামলা এবং এর পেছনে থাকা পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে জোটের কাঠামোর মধ্যে ‘সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কায় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এরপর ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে জোটের রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কৌশলগত কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ রিয়াদ বৈঠকে সেনা ও সামরিক সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় নতুন এই প্রতিরক্ষা জোট এবার কার্যকর সামরিক সহযোগিতার পর্যায়ে প্রবেশ করল।

ঠিকানা/এনআই

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz