প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেই শুধু দায় সেরেছে। তিনি এখনো এমপি হিসেবে বহাল আছেন। এ ক্ষেত্রে দেশে এমপিদের আচরণবিধি নিয়ে কোনো আইন না থাকার সুযোগ নিয়েছে জামায়াত। এসব কথা বলেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও দ্য পিপল-এর সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন।
ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রমাণিত হয়েছে এমন একটি আইন দরকার- যেখানে এমপিদের আচরণ, নৈতিকতা বিষয়ক নির্দেশনা থাকবে। যা লঙ্ঘন করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর এমপি থাকতে পারবেন না। এমনকি এমপিদের জন্য বিলেতে এথিকস কমিটিও আছে। আমাদের দেশেও এমন কিছু দরকার।’
১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এই টকশোতে অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন ঢাকা-১২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। নিউইয়র্ক সময় বেলা ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) যা সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন ইউটিউব চ্যানেলে। সরকার, প্রশাসন, সংসদ ও রাজনীতির নানা বিষয়ে কথা বলেন দুই অতিথি।
গাজী নজরুল ইসলাম বহিষ্কারের পর থেকে দলের সঙ্গে যোগাযোগ নেই- বলছেন জামায়াতের এমপি সাইফুল আলম খান মিলন। তিনি আরও বলেন, ‘নজরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে বলা হয়েছিল। অথচ এরপর আমরা দেখলাম সংসদের কমিটিতেও গাজী নজরুলকে রাখা হয়েছে। সংসদে এর প্রতিবাদ করেছিলেন জামায়াতের আমির। আসলে জামায়াতকে চাপে রাখতে সরকার গাজী নজরুলকে নিয়ে একধরনের প্লে করছে। এই প্রবণতা থেকে সরকারের বেরিয়ে আসা উচিত।’
শুধু মিরপুরের ভাঙচুরের ঘটনাই নয়, সারা দেশের চাঁদাবাজির সব ঘটনায় বিএনপির কেউ না কেউ জড়িত, দাবি করছেন জামায়াত নেতা সাইফুল আলম খান মিলন। তিনি বলেন, ‘দেশের প্রথম সারির পত্রিকাগুলো দেখলেই চাঁদাবাজি বিষয়ক অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যাবে। এসব চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, আমরা বারবার এই আহ্বান জানিয়ে আসছি।’
এদিকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর ও লুটপাট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন। তবে তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর সালমানকে আমরা দেখলাম ঢালাওভাবে বিএনপিকে চাঁদাবাজির জন্য দায়ী করলেন। অথচ ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। বরং আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষ, এমনকি জামায়াতের একজন নেতারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। আসলে সালমান মুক্তাদির যখন যেমন, তখন তেমন অবস্থান নেন-এটা মোটেই ঠিক নয়।’