শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

রোজার আগে ২ হাজার ইউনিয়নে নির্বাচনের পরিকল্পনা ইসির

রোজার আগে ২ হাজার ইউনিয়নে নির্বাচনের পরিকল্পনা ইসির

ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
আগামী বছরের শুরুতেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন।

জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রথম স্লটের নির্বাচন শুরু হলে, সে ক্ষেত্রে রমজান মাসের আগে তিনটি স্লটে দুই হাজার ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে এক সাক্ষাৎকারে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে যদি প্রথম স্লটের নির্বাচন হয়, তাহলে তার ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

তিনি বলেন, নভেম্বর-ডিসেম্বরে যেহেতু পাবলিক পরীক্ষা রয়েছে, ছাত্র-ছাত্রীরা যেন নির্বিঘ্নে, সুশৃঙ্খল ও সুন্দরভাবে পরীক্ষা দিতে পারে, সে জন্য আগামী বছরের শুরু থেকে, অর্থাৎ জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। কোনো ব্যাপারে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কিছুই হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইউপি নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি আছে উল্লেখ করে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। আরও যেসব প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রয়োজন সেটা করব। তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি একটা চলমান প্রক্রিয়া।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, রমজানের আগে একাধিক স্লটে ইউপি নির্বাচন করার চিন্তা করা হচ্ছে। রমজানের পরে আবার শুরু করে জুন মাসের মধ্যে সব ইউপি নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রমজানের পরে আবার কখন থেকে ইউপি নির্বাচন শুরু হবে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রমজানের পরই এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। কাজেই তখনকার অবস্থা বিবেচনা করে ঠিক করা হবে।

সে ক্ষেত্রে ইউপি নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা করা হতে পারে এ প্রশ্নের জবাবে ইসি মাছউদ বলেন, নির্বাচনের ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। যদি জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রথম স্লটের নির্বাচন হয় তাহলে তার ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে।

স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনের বিষয়ে ইসির পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পরপরই আমাদের পৌরসভা নির্বাচন করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারলে তারপর পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকারের অন্য নির্বাচনগুলো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন উল্লেখ করে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, সবারই সহযোগিতা লাগবে। স্কুল, কলেজের শিক্ষকসহ সবার সহযোগিতা লাগবে। কাজেই সরকারের সাথে সমন্বয় করেই ভালো নির্বাচন করার জন্য আমরা চেষ্টা করব।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে উল্লেখ করে ইসি মাছউদ জানান, সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইসির প্রস্তুতি সভায় আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

ইসি মাছউদ বলেন, আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ স্বাভাবিক ধরেই আমরা কাজ শুরু করব এবং সেনাবাহিনীকে আমরা প্রথম ডাকব না। তবে প্রথম ধাপে ইউপি নির্বাচন করে যদি মনে হয়, আইনশৃঙ্খলা আরও শক্ত হওয়া দরকার, সে ক্ষেত্রে আমরা বিবেচনা করব। অন্যথায় স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে ডাকার প্রয়োজন এই মুহূর্তে অনুভব করছি না।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো ইউপি নির্বাচনও সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার শতভাগ প্রচেষ্টা থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেহেতু আমরা দেশব্যাপী একদিন একটা বড় নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছি, সে ক্ষেত্রে ইউপি নির্বাচন এলাকাভিত্তিক বা সংখ্যাভিত্তিক এবং বিভিন্ন স্লটে হবে। আমরা চেষ্টা করব যতদূর সম্ভব গণ্ডগোল বা মারামারি বা হানাহানি বা যে সকল অনিয়ম সেটা যতদূর সম্ভব যেন কম হয়।

এদিকে দেশের মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ২৭২টিতে আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের বাধ্যবাধকতার কারণে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করতে হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইসির সভা শেষে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ৬ জুনের আগেই স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায়।

অপরদিকে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, আগামী জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে আগামী ৬ জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে একটা টাইমলাইন ধরে আমরা চিন্তাভাবনা করছি। এর মধ্যে যদি সব মামলা-মোকদ্দমা নিষ্পত্তি হয়ে যায় তখন ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা আরও বাড়বে। প্রায় ৫ হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ধাপে ধাপে করতে গেলেও এক একটা ধাপে সংখ্যাটা অনেক বড় হয়ে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আমরা আশা রাখি, পরীক্ষাগুলো ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হয়ে গেলে জানুয়ারি থেকে আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে পারব।

এদিকে সম্প্রতি ‘ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা’, ২০২৬-এর গেজেট প্রকাশ করেছে ইসি। ইসির সংশোধিত বিধিমালায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ২৫ হাজার টাকা ও সদস্য প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয় ১০ লাখ ও সদস্য প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয় ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে কমিশন।

এ ছাড়া নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হুমকি, ভীতি-প্রদর্শন ও বাধা প্রদানের শাস্তি অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান করা হয়েছে।

অন্যদিকে কোনো প্রার্থী নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ অপেক্ষা কম পেলে তার জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত হবে। একই সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা সমান হলে কমিশন সর্বোচ্চ সমভোটপ্রাপ্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে পুনর্ভোট গ্রহণের জন্য রিটার্নিং অফিসারকে নির্দেশ প্রদান করবে। সূত্র : বাসস

ঠিকানা/এনআই

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz