প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৩
•
অনলাইন সংস্করণ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার নিউইয়র্ক আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হবে তাঁর প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে প্রতিনিধিদলের আকারও থাকছে তুলনামূলকভাবে ছোট। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ তাঁর সফরসঙ্গীর সংখ্যা হবে সর্বসাকুল্যে প্রায় ৪০ জন। নিউইয়র্ক সফরের ক্ষেত্রে অতীতের বড় প্রতিনিধিদলের তুলনায় এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
এর আগে জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছিল, তাঁর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের সদস্যসংখ্যা ৩৫ জনের বেশি হবে না। তবে সফর ঘনিয়ে আসার পর নিউইয়র্কভিত্তিক একাধিক প্রতিবেদনে নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ মোট সংখ্যা প্রায় ৪০ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে সফরসঙ্গীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন এবং ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার পর্যন্ত নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন। জাতিসংঘে ভাষণের পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তাঁর একাধিক বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাবেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার। সেখানে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, নতুন সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শান্তি, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় তাঁর বক্তব্য ও বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে।
তারেক রহমানের এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। গত ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে চার দশক পর আবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নেতৃত্বে এসেছে বাংলাদেশ। ড. খলিলুর রহমান গত ২ জুন মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৯৯ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটি প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর হলেও যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর সর্বশেষ সফর ছিল ২০০৫ সালে। এবার তাঁর সফরকে ঘিরে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠন ও বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানাতে কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।