জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার নিউইয়র্কে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো।
এদিকে, বাংলাদেশের আদালতে জাতীয় সাত নেতাকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেওয়ায় নিউইয়র্কে কর্মসূচি ‘কঠোর’ থেকে ‘ভয়ঙ্কর’ এবং ‘বিক্ষোভ’ থেকে ‘গণধোলাই’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের প্রতিবাদে ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার জেএফকে এয়ারপোর্টের ৮ নম্বর টার্মিনালে বিক্ষোভ করবে দলটি। পাশেই স্বাগত সমাবেশ করবে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি নেতা-কর্মীরা। এই কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরকে আমরা স্বাগত জানাতে চেয়েছিলাম। তাঁকে আমরা তিনটি শর্ত দিয়েছিলাম। সেগুলো মেনে নিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারতো। কিন্তু সেসব শর্ত পূরণ না করায় এবং বাংলাদেশের আদালতে সাতজন জাতীয় নেতাকে মিথ্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়ায় এখন আমরা ‘ভয়ঙ্কর’ কর্মসূচি দিতে বাধ্য হলাম।
দলের ঘোষিত কর্মসূচির বর্ণনা করে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমরা যেখানে তারেক রহমান, সেখানেই ‘ভয়ঙ্কর’ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবো। আইনের মধ্য থেকে এসব কর্মসূচি পালন করার কথা উল্লেখ করে প্রকারন্তরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের যেখানে পাবো, সেখানেই তাদের ‘গণধোলাই’ দেওয়া হবে।
‘গণধোলাই’ নাকি ‘প্রতিহত’, এ বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানতে চাইলে সিদ্দিকুর রহমান ‘গণধোলাই’য়ের কথাই পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়টি সংঘাতে রূপ নেবে কীনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের একের পর এক হত্যা করা হচ্ছে। নির্যাতন চলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের রক্তে রঞ্জিত। তাই আমরা এখন ‘ভয়ঙ্কর’ কর্মসূটি দিতে বাধ্য হয়েছি।
কর্মসূচি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরকালীন নিউইয়র্কের অন্তত তিনটি স্থানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের অনুমতি পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন। তারেক রহমানের নিউইয়র্ক আগমনের দিন থেকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর অংশগ্রহণের সময় পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে ‘ভয়ঙ্কর’ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ছাড়াও দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এ উপলক্ষে নিউইয়র্ক ও আশপাশের অঙ্গরাজ্যগুলোতে বসবাসরত আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংগঠিত করার কাজ চলছে। বিক্ষোভগুলো শান্তিপূর্ণভাবে এবং স্থানীয় আইন ও অনুমতির শর্ত মেনে আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ‘ভয়ঙ্কর’ কর্মসূচি প্রতিহত করতে পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে দলের নেতা-কর্মীরা বিমানবন্দর, জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে এবং তার অস্থায়ী আবাসস্থল হোটেলের সামনে স্বাগত বা শান্তি সমাবেশ করবে বিএনপি নেতা-কর্মীরা। হাজার হাজার নেতা-কর্মীদের সমাবেশ ঘটবে প্রতিটি কর্মসূচিতে, এমন দাবি করেছে দলটি।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ‘ভয়ঙ্কর’ কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি গিয়াস আহমেদ ঠিকানাকে জানান, আওয়ামী লীগ ‘ভয়ঙ্কর’ কর্মসূচি দিলে আমরা বসে থাকবো না। তারা ‘ভয়ঙ্কর’ কিছু করলে আমরা ‘ভয়াবহ’ভাবে তা প্রতিহত করবো। তিনি বলেন, বিএনপির কর্মসূচিতে হাজার হাজার তরুণসহ নেতা-কর্মীরা উপস্থিত থাকবে। আওয়ামী লীগ আমাদের ওপর হামলা করলে তারাই কঠোর জবাব দিয়ে দেবে, যেভাবে অতীতে দিয়েছে। অতীতের মতই তাদের ‘হাউমাউ’ করে কাঁদতে হবে।
গিয়াস আহমেদ জানান, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ সংগঠন। তারা দেশে দুর্নীতি করে পালিয়ে গেছে। তাদের অবর্তমানে রায় দিয়েছে আদালত। এখানে সরকারের কোনো হাত নেই। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা যদি দুর্নীতি না করতো তাহলে পালিয়ে না গিয়ে দেশে থাকতো। বিচারের মুখোমুখি হতো।
তিনি বলেন, স্বৈরাচার সবসময় পালিয়ে যায়। তারা আর ফিরে আসে না। আওয়ামী লীগ আর কখনো ফিরে আসবে না। বিদেশের মাটিতে সন্ত্রাস করলে তারাই নিশ্চিহ্ন হবে। আমরা দোসরদের প্রতিহত করবো।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে প্রতি বছরের মতো এবারও ম্যানহাটনের জাতিসংঘ সদর দপ্তর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের উপস্থিতির কারণে ওই সময়ে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে চলাচল ও সমাবেশের ওপর বিশেষ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়ে থাকে। এত কিছুর পরও প্রায় প্রতি বছর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে অঅপ্রীতির ঘটনা ঘটে।