প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫১
•
অনলাইন সংস্করণ
ছবি ঠিকানা
সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে আলাদা আলাদা প্রার্থী দেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এরই মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে মেয়র পদে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে এনসিপি। ঠিক সেই সময়ে তার দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করার কথা বলছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মাধ্যমে সরকারি দল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ঘায়েল করার চেষ্টা করছে, এমন অভিযোগ করলেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় দলের মুখপাত্র ও পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ড. নাজিবুর রহমান মোমেন।
ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দলের কেউ যদি দুর্নীতি করে থাকে, আমরা তারও বিচার চাইব। কারও বিরুদ্ধে সত্যিকারের অভিযোগ থাকলে তদন্ত করুন। কিন্তু মেয়র নির্বাচনের প্রার্থিতা ঘোষণার সময় কেন?’
১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার এই টকশোতে অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। নিউইয়র্ক সময় বেলা ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) যা সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন ইউটিউব চ্যানেলে। আইন, বিচার, সংসদ, রাজনীতি আর ইতিহাসের নানা প্রসঙ্গে কথা বলেন দুই অতিথি।
সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে রেখে দুদক যে তদন্ত করছে, তার সঙ্গে সিটি নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই বলে মনে করছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, ‘সিটি নির্বাচন কবে হবে, এ নিয়ে কোনো ঘোষণাই এখনো দেয়নি নির্বাচন কমিশন। তাই আসিফের মেয়র প্রার্থী হওয়া না হওয়া কোনো বিষয় নয়। তিনি যখন উপদেষ্টা ছিলেন তখন থেকেই কিন্তু তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে শুরু করে। এ নিয়ে তখন থেকেই পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি শুরু হয়। এটাও কিন্তু সবার মাথায় রাখতে হবে।’
এদিকে উচ্চ আদালতে মামলার কার্যক্রমে ধীরগতির কারণে আইনজীবীদের আয় কমে যাচ্ছে- এমন প্রসঙ্গ সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে। বিচারপতি পদে লোকবল ঘাটতি থাকা, এর একটি বড় কারণ বলে মনে করেন জামায়াতের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ড. নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি বলেন, বিচারপতি পদে যোগ্য লোক থাকার পরও শূন্য পদগুলো পূরণ করা হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে দলীয় চিন্তা কাজ করায় বিষয়টি ঝুলে থাকছে। সম্প্রতি যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা সবাই বিএনপিপন্থী। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে বিবেচনা করলে যোগ্য অনেক লোক আছে। কিন্তু কোনো সরকারই দলের বাইরে চিন্তা করতে পারে না- মন্তব্য করেন তিনি।
বিচারপতি নিয়োগে বিএনপি সরকার দলীয়করণ করছে, এটা মানতে রাজি নন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভালো আইনজীবীরা বিচারপতি হতে চান না। তারা মনে করেন, এতে আয় কমে যাবে। নতুন আসা বিএনপি সরকারকে একতরফাভাবে দায়ী করা ঠিক হবে না। অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছর ছিল। তারা তখন বেছে বেছে বিচারক নিয়োগ দিয়ে শূন্যতা পূরণ করেনি কেন? আসলে ইচ্ছে করলেই রাস্তা থেকে ধরে এনে কাউকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ করা যায় না। অনেক চিন্তাভাবনা করে নিয়োগ করতে হয়।’