বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

​ইয়েমেনে সংঘাত, বাড়িঘর ছেড়েছে ৮৬ হাজার মানুষ : জাতিসংঘ

​ইয়েমেনে সংঘাত, বাড়িঘর ছেড়েছে ৮৬ হাজার মানুষ : জাতিসংঘ

ইয়েমেনের সানায় সরকার বিরোধী হুতি বিদ্রোহীদের সশস্ত্র টহল। ছবি : এএফপি

বিজ্ঞাপন
ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী এবং ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র সংঘাতের কারণে প্রায় ৮৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। রবিবার জাতিসংঘ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

এক সপ্তাহ ধরে হুতিদের ব্যাপক আক্রমণের পর হাজার হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। এই সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের অবশিষ্ট অংশ এবং বেশ কয়েকটি কৌশলগত দ্বীপ দখল করে নিয়েছে। এসব তৎপরতায় কৌশলগত ‘বাব আল-মানদেব’ প্রণালির ওপর হুতদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আরব বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুতির শিকার মানুষের সংখ্যা এখন ৮৫ হাজার ৮১৮ জনে পৌঁছেছে। একদিন আগে সংস্থাটি জুলাই থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৭৬ হাজার বলে জানিয়েছিল।

জাতিসংঘের সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, এই বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে ৮২ হাজারেরও বেশি মানুষ সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকে বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। বছর ধরে উত্তর ইয়েমেনের বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী হুতিরা ঠিক এই সময়টিতেই সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছিল। আইওএম জানিয়েছে, লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূল এবং তাইজ এলাকা জুড়ে এই বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে।

সংস্থাটি জানায়, তাইজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কেবল এই একটি প্রদেশ থেকেই প্রায় ৯ হাজার ২৮০টি পরিবার বা প্রায় ৫৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এখন এই বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে কিছু মানুষ ইয়েমেন ছেড়ে পুরোপুরি পালিয়ে যেতে শুরু করেছেন। আইওএম উল্লেখ করেছে যে, ২ হাজারেরও বেশি মানুষ ইতোমধ্যে জিবুতিতে পৌঁছেছেন।

জাতিসংঘের সংস্থাটি এএফপি-কে জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুতদের প্রথম দলটি গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জিবুতি উপকূলে পৌঁছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে ইরান অবরোধ শুরু করার পর, সৌদি আরবের তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান পথ হয়ে উঠেছিল এই বাব আল-মানদেব প্রণালি। আর এর ঠিক উল্টো পাশেই জিবুতির অবস্থান। আইওএম সতর্ক করে বলেছে, লড়াই যত তীব্র হচ্ছে, আরও বেশি মানুষ পালিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইওএম প্রধান অ্যামি পোপ এ প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি করে পরিবার যারা তাদের সবকিছু হারিয়েছে। অনেকেই একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মানুষের কাছে অন্য কোনো পথ খোলা না থাকায় তারা কোনো কিছু ছাড়াই সমুদ্র পার হচ্ছেন।’

ঠিকানা/এএস 

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz