প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৫৪
•
অনলাইন সংস্করণ
ছবি ঠিকানা
আওয়ামী লীগে যদি ঘুরেফিরে শেখ হাসিনাই সর্বেসর্বা হয়ে থেকে যান, তিনি যদি দলটিকে নিজের হাতের মুঠোয় রেখে দেন, তাহলে তাদের ফিরে আসা কঠিন হয়ে যাবে। তার উচিত নিজের চেয়ে দলকে বেশি ভালোবাসা, আর সেভাবে পদক্ষেপ নেওয়া। পঁচাত্তরের পর কিন্তু অন্য রকম নেতৃত্বের মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে তাদের প্রত্যাবর্তন ঘটেছিল। সেটা দলটির সবাইকে বুঝতে হবে। এসব কথা বলেছেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।
ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সবাইকে অবশ্যই জুলাই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায় স্বীকার করতে হবে। এটুকু বুঝার মতো সৎ সাহস যদি তাদের না থাকে, তাহলে ফিরে আসা কঠিন হয়ে যাবে।’
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন। এমনকি গত ৫ আগস্ট সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি কথা বলেছেন। কিন্তু তিনি কোনো অনুষ্ঠানেই তার চেহারা দেখাচ্ছেন না। এ ক্ষেত্রে ভারত সরকারের কোনো বিধিনিষেধ কি রয়েছে- এমন প্রশ্ন সামনে রাখেন ঠিকানা টিভির প্রধান সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দীন।
এমন কোনো নিষেধাজ্ঞার তত্ত্ব আছে, এটা মনে করেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তার ভাষ্যমতে, ‘হয়তো শেখ হাসিনা অসুস্থ। তার চেহারা দেখলে আওয়ামী লীগ কর্মীরা রাজনীতিতে নিরুৎসাহিত হয়ে যেতে পারেন, সেই জায়গা থেকে হয়তো তিনি চেহারা দেখাচ্ছেন না।’
১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার এই টকশোতে একক অতিথি হিসেবে ছিলেন সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। নিউইয়র্ক সময় বেলা ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) যা সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন ইউটিউব চ্যানেলে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড, জাতীয় নির্বাচন এবং সমসাময়িক রাজনীতি, সরকার ও প্রশাসনের বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বহুল আলোচিত বিষয়। বিশেষ করে অনেক পরাজিত প্রার্থী অভিযোগ করে আসছেন, প্রভাব খাটিয়ে জনগণের ভোটের রায় পাল্টে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ দাবি করেছেন, কয়েকজন উপদেষ্টার কারণে জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসতে পারেনি।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘কর্নেল অলির কথায় আমি হতাশ হয়েছি। অন্তর্বর্তী সরকারকে কিন্তু অনেকে এনসিপির সরকার, জামায়াতের সরকার বলত। তাহলে আমরা কেন বিএনপিকে ক্ষমতায় আনব? প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস স্যার বলতেন, আমরা শ্রেষ্ঠ নির্বাচন করতে চাই। সেটাই আমরা চেষ্টা করেছি। আর এনসিপি ও জামায়াতের নেতারা ড. ইউনূসকে যেভাবে শ্রদ্ধা করেন, সে ক্ষেত্রে নির্বাচন নিয়ে কারচুপির অভিযোগ হয়তো রাজনৈতিক বক্তব্য। সেটা সত্য সত্যই ঘটেছে, এটা নিশ্চয়ই বোঝাতে চান না।’
অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান বিএনপি সরকারের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান। এমন কোনো ‘অফার’ এসেছিল কি, এমন প্রশ্নে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘বিএনপি থেকে অফার করা হয়েছিল, আমি মানা করে দিয়েছি। তবে অবৈতনিক পরামর্শক হিসেবে ডাক পেলে অবশ্যই যাব। এমন কাজে আওয়ামী লীগের সময় সংবিধান সংশোধন বিষয়ক পরামর্শ দিতে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ডাকে গিয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে অন্তর্বর্তী সরকারের মতো কোনো সরকারের উপদেষ্টা হওয়ারও ইচ্ছে নেই। এ ধরনের প্রস্তাব এলে ১০ বার চিন্তা করে নিতে হবে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হয়েও মবের শিকার হতে হয়েছে, সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।