বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :
• স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শেখাতে ব্রুকলিনে ৪ হাজার ডলার • নতুন উত্তেজনায় তেলের দাম বাড়ল ৪ শতাংশের বেশি • বিদেশফেরতদের নতুন জীবন দিতে জাতিসংঘের সঙ্গে নতুন যাত্রা সরকারের • ১২ ডিসেম্বরের আগেই গঙ্গা চুক্তি করতে চায় বাংলাদেশ : পানিসম্পদমন্ত্রী • কোরআন শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে কাজ করবে সরকার : রাষ্ট্রপতি • প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর • আবরার হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর • প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী মার্কিন প্রতিষ্ঠান • ১২ অক্টোবর জানা যাবে ইউপি ভোটের তফসিল ও ধাপ : ইসি সানাউল্লাহ • সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় লেখিকা অ্যান কার্সন

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন
​মক্কার ভেল্কি ★ হঠাৎ নাজিল জয় ★ দোভাল চীনে, শঙ্কর রাশিয়ায় ★ সিকিতে সিক্রি ★ হাসিনার কপি পেস্ট অফার

মাথা ঢাকার ব্যথা দিল্লির

মাথা ঢাকার ব্যথা দিল্লির

বিজ্ঞাপন
পাকিস্তানে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে ডিপ স্টেটের সমঝোতার টেস্ট ম্যাচ চলছে। এবার বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পালা শুরুর আশাবাদী মহলের বেশ উচ্ছ্বাস। তার দেশে ফেরার ঘোষণার পর হিউম্যান রাইটস ওয়াচ- এইচআরডব্লিউও আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাথা ঢাকার ব্যথা মানবাধিকার নিয়ে তৎপরতা নতুন করে চোখে পড়ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকারের আমলে সংস্থাটি আকস্মিক সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর মধ্যস্থতায় ভারত।
এই কূটনৈতিক বাস্তবতার প্রভাব বিশ্ব পরিসরে কাজ করা অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ওপরও ফেলার আয়োজন চলছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট রাজনীতিক ও অন্যদের দীর্ঘদিন ধরে বিনা বিচারে আটকে রাখার নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি। বিবৃতি দিয়ে তারা বলেছে, ২০২৪ সালের আগস্টের আগে কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হওয়ার পর পুলিশ আওয়ামী লীগের হাজারো নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করে। তাদের মধ্যে কয়েক শ ব্যক্তি এখনো কোনো অপরাধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত না হয়েই জেলহাজতে।
পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থায়ন, প্রভাববলয়ের সঙ্গে যুক্ত এইচআরডব্লিউওর এ পরিবর্তিত তৎপরতা একটি বটিকার মতো আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মানবাধিকার ইস্যুতে সক্রিয় করে তুলেছে। এমন মোক্ষম সময়ে হঠাৎ নাজিলের মতো হাজির শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। তার সাবজেক্ট আল-কায়েদার কথিত ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার গুরুত্বপূর্ণ নেতা বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হওয়া মাওলানা ইকরামুল হক। বলা হচ্ছে, জামিনে মুক্তির পর প্রায় ২২ মাস ধরে ইকরামুল নিখোঁজ। জয় লিখেছেন, ‘মাওলানা ইকরামুল হক নামটি শুনলে হয়তো মনে হতে পারে তিনি একজন সাধারণ মাদ্রাসাশিক্ষক। কিন্তু বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে এই ব্যক্তি এখন অন্যতম বড় মাথাব্যথার কারণ। তিনি আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতা।’ জয়ের পোস্ট অনুযায়ী, ইকরামুল জামিনে মুক্ত হওয়ার পর প্রায় ২২ মাস ধরে নিখোঁজ। তার পাঁচটি কথিত ছদ্মনাম রয়েছে। এগুলো হলো আবু তালহা, মাওলানা সাবেত, নূর হোসেন, মনসুর ও মিলন। তার বিরুদ্ধে ভারতে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে বলেও পোস্টে দাবি করা হয়েছে। ইকরামুল হক জামিনে মুক্তি পান, ড. ইউনূস আমলে ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে।
এর পর থেকেই ইকরামুল পলাতক। ভারতের গণমাধ্যমগুলোতে এ নিয়ে বিশেষ সংবাদের ছড়াছড়ি। এর মাত্র কদিন আগে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা বাংলাদেশকে সম্ভাব্য কর্মকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে। ঝোপ বুঝে জয়ের এমন উপস্থিতিকালেই বোমা ফাটালেন ঢাকায় নিযুক্ত একসময়ের ভারতীয় হাইকমিশনার বীণা সিক্রি। রাজনীতি-কূটনীতিতে এখন তেমন প্রভাব না থাকলেও সিকি-মাধুলির মতো হঠাৎ জ্বলে ওঠার ভূমিকায় আওয়ামী লীগের এ অকৃত্রিম বন্ধুর। ঢাকা-দিল্লির সাম্প্রতিক সম্পর্ক নিয়ে রীতিমতো ফাটিয়ে দিয়েছেন সিক্রি। শেখ হাসিনার দ্রুত দেশে ফেরার প্রক্রিয়া বাংলাদেশ-ভারত সরকারের আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে বিএনপি সরকারকে ঘিরে সরাসরি প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তার অভিযোগ, বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতবিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়া হচ্ছে, অথচ প্রয়োজনের জায়গায় ভারতের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করছে ঢাকা। তার মতে, এ ধরনের কৌশল সফল হোক বা না হোক, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্তই চালানো সম্ভব। 
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির ওয়েবসাইটে গেল সোমবার ২৪ আগস্ট এক কলামে এসব কথা লিখেছেন বীণা সিক্রি। ‘এ স্নাব গন টু ফার? দ্য স্টোরি অব বাংলাদেশ পিএম’স স্টলড ইন্ডিয়া ভিজিট’ শিরোনামের লেখায় তিনি মূলত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৩ থেকে ২৫ আগস্টের সম্ভাব্য ভারত সফর স্থগিত হওয়া, দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট নিয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেছেন। বীণা সিক্রির ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের সফরকে কেন্দ্র করে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার মহড়া পর্যায়ে গিয়ে তা বাতিল হওয়া নজিরবিহীন ধরনের ঘটনা। এসবের সমান্তরালে দেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সিনেমা প্রদর্শনী, কনসার্ট, বাউলগান ও লোকজ আয়োজন বন্ধের দাবিতে ‘তৌহিদী জনতা’ নামে বিভিন্ন গোষ্ঠীর তৎপরতা। কোথাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধের চাপ। কোথাও মসজিদে সভা করে কর্মসূচি ঘোষণা। আবার কোথাও সরাসরি অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা, বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআ’তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) নব্য জেএমবি অংশের তৎপরতার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায়। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকির ঘটনা। ওই হুমকির ঘটনার পর ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তারা দেখা করলে একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন রাষ্ট্রদূত।
চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলার পর পুলিশ কর্মকর্তারা ঢাকাস্থ জাপানি রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচির সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। যদিও চীনা দূতাবাসের মতোই জাপানি দূতাবাসেও জঙ্গি সংগঠন হামলার হুমকি দিয়েছে বলে তথ্য নেই। এমন ঘটনার ঘনঘটার সন্ধিক্ষণে যোগ হয়েছে মক্কা চুক্তি এবং এ জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আগ্রহ। তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকা-দিল্লির এ টানাপোড়েনের আসল সূত্রপাত দিল্লিতে নয়, বেইজিংয়ে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম বড় বিদেশ সফর করেন চীন। সেখানে অবকাঠামো, বিনিয়োগ, তিস্তা, মোংলা বন্দর, বাণিজ্য ও যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। সফরের আগে ঢাকা জানিয়েছিল, চীনের সঙ্গে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল সইয়ের প্রস্তুতি রয়েছে। দিল্লির অস্বস্তি এখানেই। তিস্তা ও মোংলা ভারতের কাছে শুধু উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা, বঙ্গোপসাগর, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং চীনের কৌশলগত উপস্থিতির প্রশ্ন।
চীনের সঙ্গে এসব প্রকল্পে বাংলাদেশের আগ্রহকে ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখেছেন সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক বীণা সিক্রি। তার ওপর সৌদ আরব-তুরস্ক-পাকিস্তান সামরিক জোট গঠন আসলে ভারতের জন্য এক বিশাল কৌশলগত মাথাব্যথা। এর মাঝে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই জোট গঠনকে স্বাগত জানানোয় সাধারণ মাথাব্যথা তীব্র মাইগ্রেনে পরিণত হয়েছে। এ বছর ভারত রাশিয়ার সঙ্গে রেলোস চুক্তি করেছে সৈন্য, যুদ্ধজাহাজ, জঙ্গি বিমানসহ সামরিক জোট গঠনের জন্য। বাংলাদেশ হলো এখন তার সবচেয়ে বড় কৌশলগত কার্ড। এদেশকে মুসলিম সামরিক জোট, আমেরিকা ও চীন থেকে দূরে রাখতে ভারত ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। চীন ছুটে গেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বহুল আলোচিত অজিত দোভাল। মস্কোতে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। আগামী মাসে ভারতে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের সম্মেলন। এতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিনের অংশগ্রহণের ব্যাপারে আশা করছে দিল্লি। আশা করছে বাংলাদেশকেও কাছে পাবার। ভরসা দিয়ে বলা হচ্ছে, ঢাকাকে দিল্লি এমন কিছু দেবে, যা বাংলাদেশ কখনো ভাবতেও পারছে না। অনেকটা শেখ হাসিনার সেই উক্তি ‘ভারতকে এত কিছু দেওয়া হয়েছে, যা তারা আজীবন মনে রাখবে’র মতো কপি পেস্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz