শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

​ভঙ্গিমালাবণ্য জল দাও

​ভঙ্গিমালাবণ্য জল দাও

বিজ্ঞাপন
এতটাই ভিজে গেছ তুমি!
তোমার চুল, ব্লাউজ, শাড়ির আঁচল,
কপালের টিপ, লিপস্টিক, পায়ের নূপুর
চোখের কাজল, হাতে কদম ফুল সব ভিজে গেছে
যাক ভিজে, ভিজতে দাও সব।

ধান ভিজলে ভেতরের চালও ভেজে
চাল ভিজলে কৃষাণীর জ্বালা বাড়ে
মৃত্তিকা ভিজলে সোঁদা গন্ধ ধরে
তুমি ভিজলে আঁখিতে নেশা ধরে।

কাপড় ভিজলে শরীর ভেজে,
শরীর ভিজলে মন মনের গহিনে যে মনপাখি,
সেও ভিজে ভিজে যায়...
যাক ভিজে, আজ ভিজতে দাও সব।

খরায় খরায় তাতানো শরীর
ঝাঁ-ঝাঁ রোদে মৃত্তিকা চৌচির
তৃষ্ণার্ত প্রেমিক আজ উৎস খুঁজে ফেরে-
তাই বলি, এই তো ভেজার সময়, এই তো সৃষ্টির সময়
যেভাবে বাঁশপাতা, নিমপাতা, তুলসীপাতা ভেজে-
সেইভাবে চলো আজ ভিজে ভিজে যাই।
বৃষ্টির জলে ভিজতে ভিজতে নোঙর করো
আমাকে ধরো, ভঙ্গিমালাবণ্য জল দাও।
মাদুর পাতো, না হয় হাত পাতো, নয়তো ঠোঁট-
কলাপাতা পাতো, না হয় পদ্মপাতা, নয়তো শাড়ির আঁচল
অন্তত একটা কিছু পেতে রেখো, কিছুই যদি না থাকে ঘরে-
তাহলে বৃষ্টির জলে ভিজতে ভিজতে
শরীর পাতো, পাতো মন, মন ভিজলে মৃত্তিকা কথা বলে-
সেই নরম মৃত্তিকা দিয়ে কারিগর শিল্প গড়ে,
গড়তে হলে কিছুটা দম লাগে, সাধনা লাগে-মোলায়েম মন লাগে, লাগে নরম কাঁদা-মাটি-জল।
ভিজতে হলে মেঘ হতে হয়, গড়তে হলে ভিজতে হয়।
গড়তে হলে জলের আগুনে পুড়তে হয়
ঘামে ভিজে তবেই কবিতার জন্ম হয়।
তুমিও কি সৃষ্টির সময় ভিজেছিলে এমন?
চরণ ছুঁয়ে শুধাব দেখা হলে কোনো দিন।
যে ভেজাবে সেই তো শুকাবে, তবে আর দ্বিধা কেন?

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz